তারুণ্যের দাপট নাকি অভিজ্ঞদের পদচারণা— কাতার বিশ্বকাপে আলো কাড়ার তালিকায় উপরের সারিতে থাকবেন কারা? লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা, গ্যারেথ বেলদের দুর্দান্ত ফর্ম ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, ‘ফুরিয়ে’ যাননি। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে টইটম্বুর এসব তারকা তরুণদের বিপরীতে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করবেন ‘বয়স শুধুই একটি সংখ্যা’।
বিশ্বকাপ যত কাছে আসছে, দেশের জার্সি চাপিয়ে ততই যেন ক্ষুরধার হচ্ছেন মেসি-রোনালদো-বেলরা। ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবার ওয়েলসকে বিশ্বকাপে জায়গা এনে দিয়েছেন ৩২ বর্ষী বেল। আর্জেন্টাইন মহাতারকা এস্তোনিয়ার বিপক্ষে একাই করেছেন পাঁচ পাঁচটি গোল। পর্তুগিজ সুপারস্টার চড়ে আছেন গোলমেশিনে। ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে থাকা বেনজেমাও কম যাননি।
ইএসপিএন ফুটবলের বিশ্লেষণ, কাতার বিশ্বকাপের পর ফুটবলে পথচলা যাদের থেমে যেতে পারে, দাপট দেখাবেন তারাই। ৩৭ বছরেও রোনালদো, ৩৪ বছরের মেসি, ৩৫ বছরের সুয়ারেজ, ৩৪ বর্ষী বেনজেমা— তরুণ আর্লিং হালান্ড, স্পেনের গ্যাভি ও পেদ্রি, ফ্রান্সের কাইলিয়ান এমবাপে, ইংল্যান্ডের ফিল ফোডেন অথবা ব্রাজিলের ভিনিসিউসদের বিপরীতে সব আলো কাড়ার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবেন। বয়সের বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সর্বোচ্চ অর্জনে মেতে থাকবেন বুড়োরাই!
গতি, শক্তি, চোট কিংবা ফিটনেস— সবকিছুর হিসেব-নিকেশ ছাপিয়ে বয়স ত্রিশের ঘর ছাড়ালেই ফুটবলাররা সাধারণত বুট জোড়া তুলে রাখার কথা ভাবেন। ব্রাজিল মহাতারকা পেলে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার খেলেছেন যখন, তার বয়স ছিল ২৯। ডিয়েগো ম্যারাডোনা ৩৩ বছর বয়সের পর তুলে রাখেন জার্সি। ব্রাজিলের আরেক তারকা স্ট্রাইকার রোনাল্ডো ২৯ বছর ও মিডফিল্ডার জিনেদিন জিদান ৩৪ বছরে ছেড়েছেন ফ্রান্সের জার্সি। ইতিমধ্যে খ্যাতিমান পূর্বসূরিদের পথ অতিক্রম করেছেন মেসি-রোনালদো-বেলরা।
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। ৩৭ বর্ষী মহাতারকার এটাই শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। মেসিও হয়ত শেষ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টায় জমিয়ে রেখেছেন নিজেকে।
বেল-বেনজেমা-সুয়ারেজ-কাভানিদের মতো অনেক বর্ষীয়ানকে কাতার বিশ্বকাপের পর দেশের জার্সিতে দেখা নাও যেতে পারে। অভিজ্ঞতার সবটুকু নিংড়ে তারা শুধু বিশ্বকাপ-ই খেলবেন না, কাতার বিশ্বকাপের ফেভারিট ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রাজিলকে টপকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ অর্জনটা নিজের নামে করতে চাইবেন।
মেসি বা রোনালদো কি বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারে নিখুঁত একটি ট্যাগ লাগাতে পারবেন? বেল, বেনজেমা, সুয়ারেজদের মতো ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের দাপুটেরা কি নিজ দেশের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারবেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর একটি পরিষ্কার হ্যাঁ, সেই হ্যাঁ কার ঝুলিতে যাবে সেটি জানতে অপেক্ষা বছরের শেষ পর্যন্ত।








