বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রধান বাধাগুলো চিহ্নিত করে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে ‘লাইটক্যাসল পার্টনার্স’ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
গবেষণাটি বাস্তবায়ন করেছে সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এসএএফ বাংলাদেশ) ও ডাসকো ফাউন্ডেশন, আর সহায়তা দিয়েছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ।
গবেষণা প্রকাশ উপলক্ষে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার হোটেল সিক্স সিজনসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত, উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের সিনিয়র বিজনেস কন্সাল্টেন্ট আইনান তাজরিয়ান গবেষণার তথ্য-উপাত্ত এবং বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন।
দেশে বছরে দুই মিলিয়ন টনের বেশি আম উৎপাদন হলেও রপ্তানি হয় মাত্র ০.০৫ শতাংশ। তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরশীলতার কারণে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানসঙ্গতি, কোল্ড-চেইন অবকাঠামো, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং সার্টিফিকেশন সক্ষমতার ঘাটতি রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান বাধা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনসহ নতুন বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় রপ্তানির সুযোগ বাড়ছে, তবে প্রস্তুতি ঘাটতি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনে উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নয়ন, পোস্ট-হার্ভেস্ট ব্যবস্থাপনা, কোল্ড স্টোরেজ সক্ষমতা, রপ্তানি মানদণ্ড পূরণ এবং বাজার সংযোগ—এই পাঁচটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদ আমিন জানান, গত মে মাস থেকে তারা এই গবেষণা পরিচালনা করে আসছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা গবেষণাটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, ‘এ সকল সমস্যা সমাধান এককভাবে ড্যাম করতে পারবে না, তার জন্য প্রয়োজন আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের হলেস্টিক প্রসেসে এগুতে হবে।’
বাংলাদেশস্থ ডাচ দূতাবাসের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার (অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি) ওসমান হারুনী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানি কৃষি বাণিজ্যের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হছে আম। আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে হলে আমাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। পাকা আমের পাশাপাশি আমের মূল্য সংযোজনের জন্য প্রক্রিয়াকরণকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ আম রপ্তানি হয় ইথনিক মার্কেটে। এখন পর্যন্ত আমরা চেইন মার্কেটগুলোতে প্রবেশ করতে পারিনি। তার জন্য আমাদের অবকাঠামোগত অনেক কার্যক্রম হাতে নেওয়া জরুরি।








