কিশোরগঞ্জে পাকুন্দিয়া কৃষক আখতারুজ্জামান (৭০) হত্যা মামলায় তিন ভাইসহ সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায় আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সায়েদুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাকুন্দিয়া উপজেলার চরকাউনা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৫), মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে তিন ছেলে আসাদ মিয়া (৪০), কাশেম মিয়া (৫০) ও ফালান মিয়া (৪৫)। অপর তিনজন হলেন- আবুল কাশেমের ছেলে এনামুল হক (২০), আব্দুর রাশিদের ছেলে সুমন মিয়া (২৫) এবং মুর্শেদ উদ্দিনের ছেলে মাসুদ (২৮)।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আল আমিন ও এনামুল হক বাদে অন্য পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু নাসের মো. ফারুক সঞ্জু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে চরকাওনা নতুন বাজারে থেকে বাড়ি ফেরায় পথে রিয়াজ উদ্দিনের বাড়ীর পূর্ব পার্শ্বের কালভার্টের কাছে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা আসামীগণ রামদা, কিরিছ, লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে কৃষক আখতারুজ্জামানকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার প্রথমে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
২৮ ডিসেম্বর সকালে সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে কর্তবরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে এ্যাম্বুলেন্সযোগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রথে সকাল সাড়ে ১০টার সময় কৃষক আখতারুজ্জামানের মৃত্যু হয়। একই দিন ২৮ ডিসেম্বর তার স্ত্রী আশরাফুন্নাহার সাতজনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন উপ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাতজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।







