ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপের দাবি তুলে সরব হলেন অন্তত ৭০ জন পদ্ম সম্মান প্রাপক।
হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার (১৮ আগস্ট) তারা মোদিকে চিঠি লেখেন।
সেই চিঠিতে মোদিকে লিখেছেন, ‘আমরা সম্প্রতি কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা নিয়ে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গভীর যন্ত্রণার সাথে আপনাকে এই চিঠি লিখছি। আমাদের দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে আপনার কাছে আমাদের নিবেদন, এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনি অবিলম্বে এবং ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করুন। এই ধরনের বর্বরতা চিকিৎসাকদের সেবার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যে সব নারী স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতা মোকাবিলার জরুরি প্রয়োজনে পদক্ষের করা উচিত।’
মোদিকে লেখা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করা কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক হলেন: ফর্টিস এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ডঃ অশোক শেঠ, দিল্লি এইমসের প্রাক্তন ডিরেক্টর ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া, মহাজন ইমেজিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ হর্ষ মহাজন, ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেসের ডিরেক্টর ডাঃ এস কে সারিন, এইমস দিল্লির এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের প্রধান ডঃ নিখিল ট্যান্ডন এবং মেদান্ত দ্য মেডিসিটির ইনস্টিটিউট অফ ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড হেপাটোবিলিয়ারি সায়েন্সেসের চেয়ারম্যান ডঃ রণধীর সুদ।
চিকিৎসকরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হচ্ছে: বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ, যৌন সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর ও সময়াবদ্ধ শাস্তি, হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য সম্ভাব্য কঠোরতম শাস্তি।
চিঠিতে চিকিৎসকরা নিহতের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারত মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে।








