বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যমান সংকট সমাধানে এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকরা।
রোববার ১৫ সেপ্টেম্বর ও সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুই দিন সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রধানের স্বাক্ষরিত এসব চিঠি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিদ্যুৎ বিভাগে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
চিঠিগুলোতে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়নসহ প্রায় একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ব্যবস্থাপকরা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দফা দাবিতে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে আন্দোলন চলমান। দাবি আদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কর্মবিরতিসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালনের পর গত ২৪ আগস্ট ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে গণছুটির ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্ট পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম যোগদানের পর দাবি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার প্রতি আস্থা রেখে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বিদ্যমান সংকট নিরসনে আরইবি’র সিস্টেম রিফর্মসহ অন্যান্য সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু সিস্টেম রিফর্মসহ দাবির ব্যাপারে কমিটিকে শুরু থেকেই অসহযোগিতা করে আসছেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। একাধিকবার সভা আহ্বান করা হলেও আরইবি‘র কেউ তাতে অংশ নেয়নি। এমনকি আরইবি সংস্কারে তারা কেউ সম্মত নন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা।
এসব পরিস্থিতি তুলে কালক্ষেপণ না করে বাস্তবতার নিরিখে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করে আসছি আমরা। বিপরীতে শুধু আশ্বাস এবং কমিটি গঠনের কাগজই পাচ্ছি । বাস্তবে দাবি পূরণের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের কমিটিকেও আরইবি সহযোগিতা করছে না। বর্তমানে আরইবি এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে আরইবির প্রতি যে পরিমাণ ক্ষোভ ও ঘৃণা জন্মেছে তাতে বিদ্যমান সংকট সমাধান না হলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে বলেও দাবি করেন তারা।







