চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বন্ধ হোক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপরাজনীতি

ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ
২:৪৯ অপরাহ্ণ ১৮, আগস্ট ২০২৪
মতামত
A A

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জন্ম দিয়েছে আরো অনেকের অনেক বক্তব্যের। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার মতো যেন তাঁর এই ‘একটি কথার দ্বিধা থরথর চূড়ে ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী।’ ইতোমধ্যে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে।

১২ আগস্ট এক বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন কিছু করবেন না যে আপনাদের (আওয়ামী লীগ) জীবন বিপন্ন হয়। এ দেশের পাবলিক এখনো আপনাদের গ্রহণ করতে আসেনি। আমি বরং মনে করি, আপনারা আপনাদের পার্টি রি–অর্গানাইজ (পুনর্গঠন) করুন।’ (১২ আগস্ট ২০২৪, প্রথম আলো)। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের দলগুলোর মধ্যে।

আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ১৫ আগস্টে শোকদিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। শোকদিবস পালনের আগে থেকেই প্রতিবিপ্লবী পাঁয়তারার অভিযোগ তুলে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থান নিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। ১৫ আগস্টের আগে ও পরে আওয়ামী লীগ মোকাবেলার কৌশল হিসেবে বিরোধী পক্ষগুলোর আরও কিছু পদক্ষেপ ও বক্তব্য লক্ষ্য করার মতো। সেগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও আছে। মূলত সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি জোর পেয়েছে।

ছাত্র-আন্দোলনের সমর্থক গণ-অধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর আইন উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে ‘আওয়ামী লীগের অনেক ভালো ইতিহাস আছে, কিন্তু গত ১৫ বছরে তাদের যে ইতিহাস, পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম ইতিহাস।’ (১৪ আগস্ট ২০২৪, বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম)।

১৫ আগস্ট থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ নামে সপ্তাহব্যাপী যে কর্মসূচি দিয়েছে তাতে চার দফা দাবি আছে। এই চার দফাতে না থাকলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রথম দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে তারা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আওয়াজ তুলেছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আমরা রাজনীতির যে ধরন-ধারণ দেখছি তাতে মনে হচ্ছে দুয়েকটি দল বাদে সব দলই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলগুলোই অনুসরণ করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও অরাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীগুলোও এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের জুতায় পা ঢুকিয়ে নেড়েচেড়ে দেখছে মাপ ঠিকঠাক আছে কি না। আওয়ামী লীগ যেভাবে জনগণকে বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ করেছে এবং বিএনপি-জামায়াতের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে সেই একই প্রক্রিয়া মাঠ পর্যায়ের বিএনপিসহ অন্য গোষ্ঠীগুলোর আচরণে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। বিপুল জনপ্রিয় যে ছাত্র-আন্দোলন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়ে একটি অভিন্ন উদ্দেশে ‘জনতার সামষ্টিক সত্তা’ হয়ে উঠেছিল সেটিও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবার ভিন্ন মত, পথ ও ব্যক্তিতে ফিরে যাচ্ছে আস্তে আস্তে, কিছু কিছু সমালোচনার মুখে পড়ছে।

Reneta

হাসিনা সরকারের গঠন করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই শেখ হাসিনা এবং অন্যদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। অবস্থা দেখে মনে হতেই পারে যে, যেসব আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেই একই প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হতে পারে। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে আদালত রায় দেয় এবং পরে আপিলেও সে রায় বহাল থাকে। ওই সময়ে জামায়াতের একাংশ এবি পার্টি নামে নতুন দলও গঠন করে।

২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলাম, ছাত্রশিবির এবং তাদের সব ধরনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরই মধ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও জামায়াতের নিবন্ধন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এখনও জানা নেই। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করার পরও যে তাদের রাজনীতি বন্ধ ছিল তা নয়। রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেই রাজনীতি বন্ধ হয় না, বরং তলে তলে তা চলতে থাকে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো কোনো দলের বাড়তি শক্তি সঞ্চয় কখনো কখনো সহজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পদক্ষেপ, কার্যক্রম, বক্তব্য ও উদ্যোগের মাধ্যমে এটা একেবারে সুস্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ এবং তার নেতাকর্মীদের হত্যা, দুর্নীতি, অনিয়মের কারণে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিচার চলাকালেও অভিযুক্ত দল হিসেবে আদালত চাইলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর সাময়িক স্থগিত আদেশ জারি করে দিতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পার্টি নিষিদ্ধের বহু রাজনীতি অতীতে দেখা গেছে। আশাপাশের দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, চীন, নেপাল, শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে তেমন উদাহরণ অনেক আছে। থাইল্যান্ডে গত দুই দশকে এই ধরনের পদক্ষেপ আমরা দেখেছি। অভ্যুত্থানের পর সেখানে দল নিষিদ্ধ হয়ে গেলে অন্য দলে যোগ দান ও নতুন দল গঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার থাই রাক থাই পার্টি নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর পিপলস পাওয়ার পার্টি এবং ফেউ থাই পার্টির মাধ্যমে প্রথমে নিজের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা এবং এখন (১৬ আগস্ট ২০২৪) নিজের কন্যা পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে এনেছেন। বাংলাদেশে যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে প্রবল আন্দোলন চলছিল তখন পাকিস্তানে (১৫ জুলাই ২০২৪) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পিএমএল এবং পিপিপি জোটের সরকারের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার আগে পিটিআই ক্ষমতায় থাকার সময় (২০১৮-২০২২) অন্তত দুটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল।

অপরাধী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত ও অভিযুক্ত করে পার্টি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় পড়লেও আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক আনুকূল্যে বেরিয়ে আসতে পারবে বলেই দৃশ্যত মনে হচ্ছে। তবে রাজনীতির মাঠে আবার নামতে হবে দল পুনর্গঠন করে এবং রাজনৈতিক ভাবাদর্শের নতুন বয়ান নিয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে জাতীয়তাবাদী ভাবসম্পদে আওয়ামী লীগ সবসময়েই এগিয়ে থাকা দল। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেসব রাজনৈতিক ভাবসম্পদ ব্যবহার করেছে সেগুলোর মধ্যে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু এই তিনটি ভাবসম্পদ নিয়ে তারা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে একক কৃতিত্ব দাবি করে রাজনীতি করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দল হিসেবে ঐতিহাসিক কারণে এবং অন্য দলদগুলোর ভাবদর্শিক ব্যর্থতা বা দুর্বলতার কারণে তারা এই সুবিধা নিতে পেরেছে।

জাসদ, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আওয়ামী লীগের মতো মতাদর্শিক অবস্থান থাকলেও তারা বক্তব্য, ভাষণ ও প্রচারণায় সেটিকে ততটা নিজস্ব করে তুলতে পারেননি। ১৯৭৪ সালে জাসদ শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলেও পরে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তারা নিজেরাই দল হিসেবে সেভাবে আর দাঁড়াতে পারেনি। জিয়াউর রহমানের বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কিছু ভিন্নভাষ্য ও ভাবসম্পদ তৈরির চেষ্টা করলেও তা আওয়ামী লীগের ভাষ্যের বিপরীতে সমান শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায়নি ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণেই। এমনকি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ ইত্যাদি বলে বঙ্গবন্ধুর স্থলে প্রতিস্থাপনের চেষ্টাও ততটা সফল হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দলগুলোকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে নানাভাবে অপব্যবহার করতে দেখা গেছে তার মধ্যে, এই ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিবেচনায় নিলে, আওয়ামী লীগ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। একদিন আওয়ামী লীগ যে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল সেটিকে তারা পৈতৃক সম্পত্তির মতো কুক্ষীগত করে পরাধীন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে বড় বাধা ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বলে অপবাদ। মুক্তিযুদ্ধের দোহাই-ই ছিল আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ভাবাদর্শিক রক্ষাকবচ। ‘আমরা সবাই রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের অপবাদের দেওয়াল হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। খারিজ হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একচেটিয়া কারবার। বিপুল জনতার অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগের ‘মুক্তিযুদ্ধের দোহাই’ এবং ‘রাজাকার, জামায়াত-শিবির’ অপবাদের ইমারত ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকারান্তরে মুক্তিযুদ্ধকেও মুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের হাত থেকে। যে কারণে জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ প্রথমে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পরে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বিদ্বেষ, বিভ্রান্তি ও কুৎসামূলক প্রচারণা’ বা তাতে ‘মদদ প্রদানে’র অপরাধে দণ্ডের ব্যবস্থা করেছে। এই আইনের ২১ ধারাটিকে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতি-রাজনীতি ও বিতর্ক বন্ধের ধারা মনে হলেও এই ধারাকে সমালোচনাকারীদের দমনে এত অপব্যবহার করা হয়েছে যে সবার ধারণা হয়েছে, আইনটি করাই হয়েছে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের জন্য।

আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসন এবং অনৈতিকতায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু ইত্যাদির দোহাই ও অপব্যহার এত বেশি হয়েছে এগুলোকে স্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া এখন জরুরি। ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র দায় হয়ে উঠেছে ‘প্রথম স্বাধীনতা’ রক্ষা করা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে এসে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসকে আমাদের রাজনীতিমুক্ত রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় বোধহয় থাকছে না। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির কিন্তু বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন এসে আটকে গেছে মানুষের স্বাধীনতা হরণ, ফ্যাসিবাদ, অবৈধ নির্বাচন, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে, তথা ইতিহাসের নতুন দায়ে।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে আহমদ ছফা ১৯৯৫ সালে বাংলাবাজার পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন জিতে তখন শেখ হাসিনা তথা কিছু মুষ্টিমেয় নেতা জিতেন, আর আওয়ামী লীগ যখন হারে গোটা বাংলাদেশ পরাজিত হয়। আমি আওয়ামী লীগের নই, কিন্তু আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল কনটেন্ট আউটলিভ করার মতো কোনো পলিটিক্স আমরা তৈরি করতে পারিনি। আওয়ামী লীগ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ভিন্ন রকম রাজনীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা আমরা করেছি, করতে পারিনি।’ এবারের আন্দোলনের পর আমরা যে পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছি সেখানে সবাই আশা করছি যে, এবার আওয়ামী লীগই হেরেছে, গোটা বাংলাদেশ হারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কিছু নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পূর্বাভাসও সেই আশা জাগিয়ে রাখার সুবাতাস বয়ে আনছে। সব মিলে মনে হচ্ছে যে ‘আওয়ামী লীগের পলিটিক্যাল কনটেন্ট আউটলিভ’ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ গঠনের যে জন-আকাঙক্ষার জন্ম হয়েছে সে জায়গা থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে রাখা দরকার। এই কারণেই রাষ্ট্রের এই ভাবসম্পদকে কোনো দলের কুক্ষীগত ও উত্তরাধিকারগত ব্যাপার করে রাখার সুযোগ বন্ধ করে সব দলের গৌরবের বিষয় করে তোলা দরকার। যে কারণে দল নিষিদ্ধ করার আগে দরকার মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার উদ্যোগ। বাংলাদেশের জন্মের পক্ষ-বিপক্ষ বলে নিন্দা ও সুবিধা নেওয়ার (ব্লেম অ্যান্ড ক্রেডিট) রাজনীতি বন্ধ হওয়া দরকার। সেই অপরাজনীতি বন্ধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষের যেসব দল তখন ছিল সেগুলোর নাম ব্যবহার বন্ধ করে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক উত্তোরণের দিকে যেতে পারি কি না তা-ও ভেবে দেখার সুযোগ ও সময় এসেছে। এজন্য রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনীতি এবং পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করে সুস্পষ্ট সংস্কারও আনা যেতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের যে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সেটিকে একটি সর্বদলীয় ও সার্বজনীন স্থায়ী ভিত্তির ওপর বহাল রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

দল নিষিদ্ধ নয়, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে বন্ধ করা প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের নামে ফায়দা লুটার রাজনীতি। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির যেমন রাষ্ট্রের কাঠামোগত জায়গা থেকে দলগুলোকে সীমা বেধে দেওয়া দরকার, তেমনই দরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা নিয়ে রাজনীতি করার সীমা। এই সীমা হবে বাংলাদেশের ২০২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ভবিষ্যতের ফায়দা লুটার দলীয় রাজনীতি নিরুৎসাহিত করার একটি প্রতীক ও ইশারা।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: জনতার সামষ্টিক সত্তামুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপরাজনীতি
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে, কাঁদলেন ভোজিনহা

জুন ১৬, ২০২৬

নিজেদের জালে বল জড়িয়ে প্রথম জয়ের অপেক্ষা বাড়াল মিশর

জুন ১৬, ২০২৬

৪০ বর্ষী ভোজিনহা: কেপ ভার্দে মহাকাব্যের রচয়িতা

জুন ১৬, ২০২৬

স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে

জুন ১৬, ২০২৬

প্রথম ম্যাচে হেরেই কোচ বরখাস্ত করল তিউনিসিয়া

জুন ১৬, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT