বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই পরিবার গুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করে সহায়তা করা হবে। দলের সব নেতাকর্মী সবসময় তাদের পাশে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী নামধারী সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত বৈধ ও অবৈধ সব অস্ত্রগুলো দ্রুত জমা নেওয়া।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত শেষে পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পর এসব কথা বলেন মিন্টু।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গত ৪ আগস্ট ফেনীতে নিহত আট ছাত্রের পরিবারকে বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু নিহত পরিবারের সদস্যসদের হাতে এ অনুদান দেন।
এরপর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের নিহত সারোয়ার জাহান মাসুদের কবর জিয়ারত করেন তিনি এবং তার বাবার হাতে অনুদানের অর্থ প্রদান করেন। পরে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুরে নিহত ওয়াকিল আহমেদ শিহাব, ফাজিলপুর ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম শাহি, সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের মান্দারি গ্রামের জাকির হোসেন শাকিব, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মাহবুবুল হাসান, ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের কলেজ ছাত্র ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ ও পরশুরাম উপজেলার ইকরাম হোসেন কাউসারের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাহেনা আক্তার রানু, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহেনা আক্তার শানু, আবু তালেব, কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহজান মিয়া সম্রাট, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেসময় বিএনপি নেতারা বলেন, ছাত্র আন্দোলনে সন্ত্রাসীরা যেভাবে নির্বিচারে গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে সরকারের উচিত সেইসব অস্ত্রগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা। তা না হলে সাধারণ মানুষ অনিরাপদ থেকে যাবে এবং সন্ত্রাসীরা সেইসব অস্ত্র ব্যবহার করে পরবর্তীতে আবারও মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষতিসাধন করতে পারে।
নিহত শ্রাবণের বাবা নেছার আহাম্মদ বলেন, আমি রাষ্ট্রের কাছে আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই । এটাই আমার চাওয়া অন্য কিছু চাই না।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে স্বৈরাশাসনের অবসান ঘটিয়েছে ছাত্রসমাজ। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বৈরাচারমুক্ত হলো বাংলাদেশ। যে স্বৈরাশাসক মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ও স্বাধীনভাবে চলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণকে শাসনের নামে শোষণ করে আসছিল। কিন্তু আমাদের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রোষানলে পড়ে স্বৈরাশাসক হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। যে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাশাসনের অবসান ঘটল সে অভ্যুত্থান সফল হয়েছে অনেকগুলো তাজা প্রাণের বিনিময়ে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনেকেই নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যাও অগণিত।








