কয়েক দশক ধরে শুদ্ধ চলচ্চিত্রের আন্দোলনে একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন। বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের হয়ে সেই আন্দোলনের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। শাহবাগ, আজিজ মার্কেট কেন্দ্রীক ছিল নিত্য আনাগোনা! সেই চিরচেনা জায়গায় শেষবারের মতোন অঞ্জন এলেন বৃহস্পতিবার দুপুরে! একেবারে নিথর দেহে!
সোমবার ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হয়েছেন চলচ্চিত্র আন্দোলনকর্মী, নির্মাতা ও শিক্ষক জাহিদুর রহিম অঞ্জন। বুধবার সন্ধ্যায় দেশে আসে তার মরদেহ।

বিমান বন্দর থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ইস্কাটনে বোনের বাসায়৷ সেখানে গোসল শেষে এশার বাদ স্থানীয় মসজিদে হয় তার প্রথম নামাজে জানাজা।
বৃহস্পতিবার সকালে অঞ্জনকে নেয়া হয় সিদ্ধেশ্বরী স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে ফিল্ম বিভাগে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, শেষ শ্রদ্ধায় তাকে বিদায় দেন ছাত্র শিক্ষকরা।
এরপর মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে, এখানে বাদ যোহর তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় অংশ নেন চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী থেকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে। যেখানে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সংস্কৃতি বিষয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
এছাড়া এখানে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শর্ট ফিল্ম ফোরাম, বাংলাদেশ টেলিভিশন এন্ড সিনেমা ইনস্টিটিউটের ছাত্র শিক্ষকেরা। এছাড়া এখানে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে উপস্থিত হন মানজেরী হাসীন মুরাদ, মোরশেদুল ইসলাম, মুহম্মদ কাইউম, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, নুরুল আলম আতিক, আকরাম খান, ফাখরুল আরেফীন, গীতিকার প্রিন্স মাহমুদসহ চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বহু পরিচিত মুখ।


জাহিদুর রহিম অঞ্জনের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২৭ নভেম্বর। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৯০ সালে ভারতের পুনে ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে ডিরেকশন এন্ড স্ক্রিপ্ট রাইটিং-এর উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সিনেমা এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউটে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।







