মাত্র ৫৬ তেই থেমে গেল ভারতের সংগীত জগতের অমূল্য রত্ন উস্তাদ রশিদ খানের জীবন প্রদীপ। যিনি এক নিঃশ্বাসে গেয়ে দিতে পারতেন, আজ তিনিই চিরঘুমের দেশে! মঙ্গলবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসাপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে কলকাতার রবীন্দ্র সদনে শায়িত ছিল উস্তাদ রশিদ খানের মরদেহ। শাস্ত্রীয় সংগীতের বহু শিল্পী, মানুষ, গুণমুগ্ধরা উস্তাদকে শেষশ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এছাড়াও রাজনৈতিক জগতেরও বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন দুপুর ১টার সময় আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রসদনে পৌঁছান। তিনি শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর সদন প্রাঙ্গণে গান স্যালুট দেওয়ার ব্যবস্থা শুরু হয়। বাইরে আনা হয় উস্তাদের মরদেহ। এসময় মুখ্যমন্ত্রী উস্তাদ রশিদ খানের স্ত্রী ও পুত্রের পাশে দাঁড়ান। রাজ্যের তরফ থেকে গান স্যালুট শ্রদ্ধা জানানো হয় রশিদ খানকে।
শুরুতে শোনা গিয়েছিল কলকাতাতেই উস্তাদকে কবর দেওয়া হবে। যেখানে তিনি কাটিয়েছেন তার কৈশোর থেকে আমৃত্যু। তাই কলকাতার মাটিতেই মিলিয়ে যাবেন উস্তাদ। কিন্তু আজ বুধবার জানা গেছে, কলকাতা নয় উত্তরপ্রদেশের বদায়ূঁতে কবর দেওয়া হবে তাকে।
পরিবারের তরফে সিদ্ধান্ত, রশিদের পরিবারের অন্যান্যদের যেখানে কবর দেওয়া হয়েছে, সেখানেই ঘুমাবেন ওস্তাদ। জন্মস্থানের মাটিই শরীরের উপর বিছিয়ে দেওয়া হবে তার। বুধবার রাতের বিমানে উস্তাদের মরদেহ উত্তরপ্রদেশ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে বদায়ূঁতে রশিদের নিজের ছোটবেলার বাড়ির প্রাঙ্গণেই শায়িত হবেন তিনি।
বেশ কয়েক বছর ধরে প্রস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন এই বিখ্যাত ধ্রুপদী শিল্পী। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠার মাঝেই তার মস্তিষ্কে একাধিক বার রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তার। বেশকিছু দিন ধরেই চিকিৎসাধীনও ছিলেন তিনি। মাঝখানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মঙ্গলবার সকালে আচমকাই তার অবস্থার অনেকটা অবনতি হয়। এরপর আর রক্ষা মেলেনি তার।







