নরসিংদীর পাঁচদোনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হওয়ার ৬দিন পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্রমিকদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদল নেতা কর্মীরা নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেয়।
নিহত আলম মিয়া (৫৫) নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলিম উদ্দিনের পুত্র এবং পাঁচদোনা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে নরসিংদীর পাচঁদোনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লাল মিয়া মেম্বার গ্রুপ ও যুবদল নেতা মোসাদ্দেক গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। এতে মোসাদ্দেক ও তার লোকজন লালমিয়া মেম্বারের লোকজনের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি হামলা চালায়।
হামলায় লালমিয়া মেম্বারের লোকজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়। ওই ঘটনায় মাথায় দেশিয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত পাঁচদোনা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আলম মিয়াকে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৬দিন পর আজ বিকেল তিনটায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আলম মিয়ার মৃত্যুর খবরে পাঁচদোনা মোড় অশান্ত হয়ে পড়ে। শ্রমিকদল নেতারা রাস্তায় আগুন লাগিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে আলম মিয়া হত্যায় জড়িত যুবদল নেতা মোসাদ্দেকের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে মধাবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে প্রায় দুইঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা।
দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় লাল মিয়া মেম্বারের ছেলে ইব্রাহিম মিয়া বাদী হয়ে মোসাদ্দেককে ১নং আসামী এবং আরও ১৯ জনকে আসামী করে গত ১৯ ডিসেম্বর মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।








