কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আওয়ামী লীগ ‘সরকার বিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন: এ আন্দোলন আমরা মোকাবেলা করবো, প্রতিহত করবো এবং পরাস্ত করবো। আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা আমরা বেঁচে থাকতে হতে দিবো না। ধৈর্য্য ধরা মানে দুর্বলতা না। সময়মতো সব কিছু দেখবেন। সময় মতো অ্যাকশন নেওয়া হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন এর নেতৃত্ব লন্ডনের দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন আওয়ামী লীগ মুখপাত্র৷
ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের নামে জনগণের কোনো প্রকার দুর্ভোগ সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো প্রকার অবমাননা আমরা বেঁচে থাকতে হতে দিবো না।
তিনি বলেন, ধৈর্য্য ধরা মানে দুর্বলতা না। আজ আমরা জোর করে চড়াও হলে আপনারা কি প্রশ্ন করতেন? সময়মতো সব কিছু দেখবেন। সময়মতো যথাযথ অ্যাকশন নেয়া হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পত্র পত্রিকায় আমরা যা দেখতে পেলাম, তাতে মনে হয়, ছাত্রলীগের উপর সব ব্যাপারে দোষ চাপানো ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে৷ ছাত্রলীগের ৫০০ জন আহত হয়েছে৷ ২০০ জনের অবস্থা খারাপ।
২০১৮ সালের কিছু গুজব তুলে ধরে তিনি বলেন: এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে গণঅভ্যুথান ঘটনোর বৃথা চেষ্টা চলছে।’
কাদের বলেন: আমরা গতকালের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
ম্যাথিউ মিলারের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন: বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তারা অন্য দেশ সম্পর্কে, অন্য দেশের গণতন্ত্র সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখে নিতে পারে না?
আন্দোলনকারীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন: আমরা আন্দোলনকারীদের আদালতের চুড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছেন, তাদের এই দিবাস্বপ্ন কর্পুরের মতো অচিরেই উড়ে যাবে।
এই আন্দোলনের ‘জনগনের সম্পৃক্ততা নেই’ বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
ওবায়দুল কাদের বলেন: তারেক রহমান আর রাজনীতি করবেন না বলে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয় সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসেও সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেই সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমান তার দল হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচনি অংশ নেয়নি। আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার ব্য্র্থতায় পর্যবসিত হয়।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন: এর আগেও তারা (বিএনপি) সড়ক ও কোটা আন্দোলনের উপর ভর করে ফসল কুড়াতে চেয়েছিলো রাজনৈতিকভাবে। সে ব্যর্থ চেষ্টার পর অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। রাজনীতিতে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে।এতে কত পুলিশ, গাড়ির ড্রাইভার, নিরীহ যাত্রী হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে। তারা সে আন্দোলনেও ব্যর্থ হয়। জনগণের অবস্থানের কাছে তারা পরাস্ত হতে বাধ্য হয়।
কোটা সংস্কার আন্দোলন যা বাংলাদেশে চলছে এর নেতৃত্ব নিয়েছেন লন্ডনের দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান। তার দল বিএনপি প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। একটি অরাজনৈতিক আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ২০১৪, ১৫, ১৮ এর মত রাজনৈতিক আন্দোলন করার জন্য বিভিন্ন অপশক্তিকে লেলিয়ে দিয়েছে। বিএনপি জামায়াতের পাশাপাশি কিছু সমমনা দলও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ।







