মেলবোর্ন টেস্টের শুরুতেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বিরাট কোহলি এবং স্যাম কনস্টাসের সংঘর্ষ কেন্দ্র করে। কাঁধ দিয়ে ‘ইচ্ছাকৃত’ ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠেছে কোহলির বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে শাস্তি পেতে পারেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক।
ম্যাচের তখন দশম ওভার শেষ, উইকেটে প্রান্ত বদলের সময় কোহলির সঙ্গে কাঁধে ধাক্কা লাগে কনস্টাসের। অভিষিক্ত অজি ১৯ বর্ষী ব্যাটার সঙ্গে সঙ্গে কিছু একটা বলেন কোহলিকে। ক্রিকেট মাঠে বরাবরই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে থাকা কোহলিও চুপ থাকেননি। কথার লড়াইয়ে জড়ান দুজনই। শেষে আরেক অজি ওপেনার উসমান খাজা এবং আম্পায়ার এগিয়ে এসে থামান তাদের।
ততক্ষণে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেটবিশ্বে। কনস্টাসের আচরণের সমালোচনা যেমন হচ্ছে, কোহলির যেচে গিয়ে ধাক্কা দেয়ার নিন্দাও হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
“Have a look where Virat walks. Virat’s walked one whole pitch over to his right and instigated that confrontation. No doubt in my mind whatsoever.”
– Ricky Ponting #AUSvIND pic.twitter.com/zm4rjG4X9A
— 7Cricket (@7Cricket) December 26, 2024
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, আম্পায়ার এবং রেফারি বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখবেন। বেশ কিছু অ্যাঙ্গেল থেকে আমরা ঘটনাটি দেখেছি। ওভার শেষে ওই পর্যায়ে ভারতের ফিল্ডার কোনো অবস্থাতেই ব্যাটসম্যানের ধারেকাছে যাওয়ার কথা নয়। ব্যাটসম্যানরা কোথায় একসঙ্গে দাঁড়ায় সেটা প্রতিটি ফিল্ডারই জানে। আমার কাছে মনে হয়েছে, কনস্টাস অনেক দেরিতে খেয়াল করেছে। কেউ তার সামনে থাকতে পারে সম্ভবত তার ভাবনায় ছিল না। কিন্তু তাকে (কোহলি) বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে।’
ক্রিকেট আইনের ২.১২ ধারা অনুযায়ী ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্যকারও (দর্শকও) সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। ক্রিকেটে অনুপযুক্ত শারীরিক সংঘর্ষের কোনো জায়গা নেই। যদি কোনো ক্রিকেটার নিয়ম ভেঙে ইচ্ছাকৃত, বেপরোয়াভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবেও কোনো ক্রিকেটার বা আম্পায়ারের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষ জড়ান, এই নিয়ম কার্যকর হবে। সেই মুহূর্তের পরিস্থিতি বিচার করে আম্পায়ার দেখতে পারবেন যে অপরাধ ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা।
ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্ট কীভাবে ঘটনাটি দেখছেন সেটির উপর নির্ভর করছে অনেককিছু। যদি পাইক্রফ্ট মনে করেন দুজনই লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধ করেছেন, তাহলে তিন বা চার ডিমেরিট পয়েন্ট দিতে পারেন। চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে পরের টেস্টে নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন ৩৬ বর্ষী কোহলি। লেভেল ওয়ান পর্যায়ের অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণত জরিমানা করা হয়।








