১৭ বছর পর প্রথমবার আইপিএল শিরোপার স্বাদ পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলিদের শিরোপা উল্লাস ছিল দেখার মতো। সেই উদযাপন পরিণত হয়েছিল শোকেও। বেঙ্গালুরুতে উদযাপনের সময় পদদলিত হয়ে মারা যান ১১ জন। এ ঘটনায় বিরাট কোহলির দায় দেখছে কর্নাটক সরকার। পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে দায়ী করা হয়েছে।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে প্রাণহানির ঘটনায় চলমান মামলায় কর্ণাটক সরকারের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন আদালত। হাইকোর্টে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজনে অনুমতি না নেয়া ও অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেছে সরকার।
বেঙ্গালুরু ট্র্যাজেডির নেপথ্যে বিরাট কোহলির একটি ভিডিওকে দায়ী করেছে সরকার। আদালতে তাদের যুক্তি, কোহলির ওই ভিডিও’র কারণে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়। পাশাপাশি, পুলিশ কর্মকর্তারা আরসিবির ভৃত্যের মতো কাজ করেছেন বলে যুক্তি দিয়েছে তারা।
৪ জুন সকালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে কোহলিকে দিয়ে প্রচার চালানো হয়। ভিডিওতে কোহলি ভক্ত-সমর্থকদের উৎসবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এতে প্রত্যাশার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি জনসমাগম হয়। পরে অবশ্য সেই ভিডিও বার্তা পেজ থেকে সরিয়ে নিয়েছে বেঙ্গালুরু।
পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এবং আরসিবির মধ্যে যোগাযোগের অভাবকে দায়ী করেছে সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কস ও কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা জনসমাগম ব্যবস্থাপনার বিশদ বিবরণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে শহর প্রদক্ষিণ ও স্টেডিয়ামে উদযাপনের অনুমতি না দিলেও তারা দ্বিগুণ প্রচার চালিয়েছে।
ঘটনার পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বেঙ্গালুরু পুলিশকে আরসিবি এবং ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্টের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং পদদলিত হওয়ার ঘটনাগুলোর তদন্তের নির্দেশ দেন। ৬ জুন পুলিশ আরসিবির বিপণন ও রাজস্ব বিভাগের প্রধান নিখিল সোসালে এবং ডিএনএর দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ইতিমধ্যেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে আনছে বোর্ড।








