চীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন তার কন্যা কিম জু এ-কে নিয়ে গেছেন। যা তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর এবং জনসমক্ষে অভিষেক।
সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই সফরের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ক্ষমতাধর রাজতান্ত্রিক শাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে কিম জু এ-কে ঘিরে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
কিম জং উন ও তার কন্যা ব্যক্তিগত ট্রেনে করে পিয়ংইয়ং থেকে চীন পৌঁছান। সেখানেই কিম জু এ-কে তার বাবার ঠিক পেছনে হাঁটতে দেখা যায়।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, ২০১৩ সালে মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানকিম পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে জে বাচ্চা মেয়েটিকে কোলে নিয়েছিলেন সেই এখন এই কিশোরী কিম জু এ।
‘পরবর্তী উত্তরসূরি’ হিসেবে সম্ভাবনা
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস) কিম জু এ-কে আপাতত সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও উত্তর কোরিয়ায় এখনও কোনো নারী শাসক আসেনি, তাই তার ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে কিছু সংশয় রয়েই গেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, কিম জং উন কখনো তার পিতা কিম জং ইলের সঙ্গে বিদেশ সফর করেননি। অথচ কিম জং ইল ১৯৫০-এর দশকে তার পিতা কিম ইল সুং-এর সঙ্গে বিদেশ সফর করেছিলেন। এটি একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত, যা কিম জু এ-র বিদেশ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
কে এই কিম জু এ?
২০২২ সালে একটি শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময় কিম জু এ-কে প্রথমবার জনসমক্ষে তার বাবার সঙ্গে দেখা যায়। এর আগে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কিম জং উনের সন্তানদের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, কিম জু এ বর্তমানে প্রায় ১৩ বছর বয়সী। ২০২৩ সাল নাগাদ তাকে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, এমনকি ডাকটিকিটেও তার ছবি প্রকাশিত হয়। তাকে “সম্মানিত কন্যা” বলে সম্বোধন করা হয় যা কিম পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা সংসদ সদস্যদের জানায়, কিম জু এ ঘোড়ায় চড়া, স্কি করা এবং সাঁতার কাটতে ভালোবাসেন। তাকে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে বাসায় থেকেই শিক্ষাদান করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জু এ ধীরে ধীরে এমন অনেক সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে আগে কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জু-কে দেখা যেত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে ভবিষ্যতের জন্য।








