জুলাই-আগস্টের ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ করতে সক্রিয় ছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা খিজির হায়াত খান। নবগঠিত ১৫ সদস্য বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে তিনি জায়গা পেয়েছেন। সেন্সর বোর্ড সদস্য হিসেবে ‘ওরা সাত জন’ নির্মাতার নাম আসায় অনেকে প্রশ্ন রাখছেন, `কোন যোগ্যতায় খিজির হায়াতকে সেন্সর বোর্ডে রাখা হলো?‘
আরেকটি পক্ষ বলছেন, আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে কি বিশেষ বিবেচনার কাতারে পড়ছেন খিজির হায়াত নিজেও? আসলেই কি তাই? এ ব্যাপারে কথা হয় ‘মিস্টার বাংলাদেশ’, ‘জাগো’ ছবির নির্মাতা খিজির হায়াত খানের সঙ্গে।
মঙ্গলবার দুপুরে এফডিসিতে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে বিপ্লব ঘটেছে পৃথিবীতে এমন নজীর খুব কম। এই আন্দোলনে বা তার আগে শত বাঁধা উতরে যারা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল তাদেরকে যদি প্রাধান্য দেয়া হয়, তাহলে আমি অসমর্থন করি না। ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা নতুন এসব কমিটিতে আসুক এটা আমি চাই না। আমার কথা খুব ক্লিয়ার, যারা বিগতদিনে দালালী করেছে তাদের এখন আর আমরা কেউ দেখতে চাই না।
খিজির হায়াত খান জানান, তাকে সেন্সর বোর্ড সদস্য করায় তিনি সম্মানিতবোধ করছেন। তিনি বলেন, মাস খানেক আগে আমার সঙ্গে একেবারে ক্যাজুয়াল আলোচনা হয়েছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সেন্সর বোর্ড, অনুদান এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জুরি বোর্ড এগুলোর কোথায় কাজ করতে চাই। বলেছিলাম, আমার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তিরা আছেন। তাদের নেন। যদি যোগ্য খুঁজে না পান তখন আমাকে মাথায় নিয়েন। তবে যেহেতু আমি ফিল্ম বানাই, তাই সেন্সর বোর্ডে ইচ্ছুক। এখানে নানা সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।
খিজির হায়াত খান বলেন, যে সেন্সর বোর্ডে আমার নাম এসেছেন এটা ১৯৬৩ সালের আইন দ্বারা পরিচালিত। ১৯৬৩ সালের পর ১৯৭৩ ও ১৯৮৫ সালে এই দুবার সেন্সর নীতিমালা সংস্কার হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সেন্সর সার্টিফিকেশন বিল পাশ হয়। দুর্ভাগ্যবশত আইনের যে বিধিমালা থাকে সেটা তৈরি করা হয়নি। বিগত সরকার কেন করেনি তা আমার জানা নেই। নতুন সেন্সর সার্টিফিকেশন আইনে জেলা প্রশাসকদের হাতে ক্ষমতা থাকছে বা ওটিটির একটি নিয়ম থাকছে এগুলোতে আপত্তি আছে। এগুলো কমিটিতে থেকে ঠিক করার চেষ্টা করবো।
খিজির হায়াত আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ে আলাপ করে জেনেছি অনেকগুলো চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে জমা আছে। মন্ত্রণালয়ের কর্তারা এতে প্রেসারে আছেন। তারা একটি কমিটি দিয়েছেন যাতে চলচ্চিত্রগুলো দ্রুত ছাড়া হয়। মন্ত্রণালয় চাচ্ছে, যতদ্রুত সেন্সর বোর্ড থেকে সেন্সর সার্টিফিকেশনে যাওয়া যায়। এজন্য বিধিমালা করতে হবে। নতুন কমিটি আনা হয়েছে যেন দ্রুত আলোচনার ভিত্তিতে এই বিধিমালাটা তৈরি করা হয়।
এদিকে, সিনেমা সংকটে ভুগছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। গেল বছর থেকে আমদানি করা হচ্ছিল হিন্দি ছবি। শুরু থেকে এর ঘোর বিরোধিতায় ছিলেন খিজির হায়াত খান। সেন্সর সদস্য পদ পেয়েও কি তিনি পূর্বের অবস্থানে অনড় থাকবেন?
উত্তরে খিজির বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি ভারতীয় ছবি আমদানির বিপক্ষে। তবে সিনেমা সংকটে আমাদের পরিবেশক এবং হল মালিকরা চাচ্ছেন, তাই হিন্দি ছবি এলে যেন দেশের ছবি অবহেলিত না হয় সেইদিকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন সিনেপ্লেক্সে দেশের সিনেমাগুলোকে বেশি শো এবং পিক টাইমে শো দিতে হবে, পরে হিন্দি ছবি চলবে।








