এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎক ডা. এফ এম সিদ্দিক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার লিভার ফাংশন খারাপ হওয়ার পরও কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তাকে মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ওষুধ দেওয়া হয়, যা তার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত লিভারের সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এটি তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।
এ বিষয়টিকে ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও অমার্জনীয় অপরাধ উল্লেখ করে এটা বেগম জিয়াকে হত্যার সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনার অংশ কিনা তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভা হয়েছে। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. এফ এম সিদ্দিক।
তিনি বলেন, বিগত ২৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আমরা বর্তমান মেডিকেল বোর্ড ওনার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করি। আমাদের তত্ত্বাবধানে ভর্তির সাথেসাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সাথে দেখতে পাই যে, ম্যাডাম লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে ওনাকে মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ট্যাবলেট আর্থাইটিসের জন্য নিয়মিত খাওয়ার নির্দেশ দেয়া ছিল এবং ওনাকে ভর্তি থাকা অবস্থায় খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিক এই ঔষধটি খাওয়ানো বন্ধ করি।
ডা. এফ এম সিদ্দিক জানান, ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটলজিস্টদের পরামর্শে এই ওষুধটি উনি খাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি ওনার ফ্যাটিলিভার ডিজিজ ছিল। ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ একটি কাজ ছিল। এরজন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মেথোট্রেক্সেট খাওয়ালে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটা উপাদান পরীক্ষা করে দেখতে হয় এবং অস্বাভাবিক হলে ঔষধ বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা দেখতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ দেখার পরও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকরা একটা আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেননি।
তিনি জানান, তৎকালীন চিকিৎসকদের উপর আস্থার অভাবে ম্যাডাম ওখানে আলট্রাসনোগ্রাফী করতে রাজি হননি কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে উনার আস্থাভাজন চিকিৎসক দিয়ে বেড সাইডে পয়েন্ট অব কেয়ার আল্ট্রাসাউন্ড সহজেই করা যেতো। নিদেনপক্ষে মেথোট্রেক্সেট বন্ধ করে দেয়া ছিল অবশ্য কর্তব্য।
‘অনেকেই প্রশ্ন করেন ম্যাডামকে কি স্লো পয়োজন করা হয়েছে? আমার উত্তর হচ্ছে: মেথোট্রেক্সেট ছিল সেই ওষুধ, যা তার ফ্যাটি লিভার রোগকে দ্রুত লিভারের সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এটি তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে’, বলেন ডা. এফ এম সিদ্দিক।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদুর প্রসারি পরিকল্পনার অংশ কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এছাড়াও উনার ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে আছে।
ডা. এফ এম সিদ্দিকের মতে, এ বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ম্যাডামের চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
১. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কিনা।
২. ভর্তিকালীন কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা।
৩. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কী কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউ’র সমস্ত ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করি। আমরা জানি জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড।









