‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’-এর ট্রেলার মুক্তির কয়েক ঘণ্টা পরেই ইন্টারনেটে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ‘সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত’ এই ছবিটি জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মামলায় আটকে পড়া মেয়েদের দুর্দশা তুলে ধরেছে।
তবে, বেশ কয়েকজন দর্শক এবং রাজনৈতিক নেতা ছবিটির সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন একটি বিবৃতি জারি করে ছবিটির নিন্দা করেছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কেরালার মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন ছবিটির আসন্ন মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এর প্রথম কিস্তি ‘রাজ্যের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং এর ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে’ তৈরি করা হয়েছিল।
তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বিজয়ন প্রশ্ন তোলেন যে কীভাবে ‘সমাজে বিভাজন এবং ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই ধরনের বিষাক্ত কাজ’ প্রদর্শিত হচ্ছে। কীভাবে একটি সিনেমা ‘বিফ’-কে কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গাই দেওয়া হয়নি।
‘তারা পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া বিয়েকে সাম্প্রদায়িকতা এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় রূপান্তরের উদাহরণ হিসাবে চিত্রিত করে মিথ্যা প্রচার করছে’, বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের শক্তি’ কেরেলার প্রতি শত্রুভাবাপন্ন, যেখানে কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নেই এবং উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। তাদেরকে ‘রাজ্যের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন যে, তারা এই ধরনের সিনেমার মাধ্যমে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
‘আমাদের সম্মিলিতভাবে কেরালাকে, ধর্মীয় সম্প্রীতির ভূমি, যা টেকসই উন্নয়নের অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে আছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি মডেল, সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টা, প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হল মিথ্যা প্রচারণার দ্বারা কেরালার ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ না হতে দেওয়া এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে তা প্রত্যাখ্যান করা’, আরও বলেন বিজয়ন।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং এবং প্রযোজনা করেছেন বিপুল অমৃতলাল শাহ। এইচটি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে, প্রযোজক বলেছিলেন যে ছবিটি ভারতীয় আইনি ব্যবস্থার সত্য ঘটনাগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি।
তিনি বলেন, ‘যখন আমরা ‘দ্য কেরালা স্টোরি: গোজ বিয়ন্ড’-এর মতো একটি ছবি তৈরি করি, তখন আমরা চেয়েছিলাম এটি আমাদের সর্বভারতীয় পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করুক। তাই আমরা যে তিনটি গল্প বেছে নিয়েছি, আমরা কেবল তাদের গল্প বলতে পারিনি। আমরা অন্যান্য মেয়ের জীবন থেকে অনেক ঘটনা নিয়েছি এবং তাদের গল্পের অংশ ব্যবহার করেছি। হতে পারে এটি তিনটি মেয়ের গল্প, তবে এতে আরও অনেক গল্পের প্রতিফলন রয়েছে’।
‘দ্য কেরালা স্টোরি ২ – গোজ বিয়ন্ড’ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।








