ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলায় পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে দেয়া অর্থের ওপর জোর দেয়া হলেও প্রসিকিউটর শুনানির সময় আরেক নারীর কথাও উল্লেখ করেছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার নথি অনুসারে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘নারী-১’ কে অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। এই নারী ‘কারেন ম্যাকডুগাল’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
মিসেস ম্যাকডুগাল একজন সাবেক প্লেবয় মডেল এবং তিনি দাবি করেছেন ট্রাম্পের সাথে তার সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কটি প্রায় ১০ মাস স্থায়ী হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
ম্যাকডুগাল সম্পর্কে যা জানা গিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাতে জন্মগ্রহণ করেন ম্যাকডুগাল। ম্যাকডুগাল ‘সাঁতার পোশাকের’ এক প্রতিযোগিতায় সর্বপ্রথম মডেলিং শুরু করেন। এরপর তিনি প্লেবয়-এ যোগদান করেন যেখানে তিনি ১৯৯৮ সালে ‘প্লেমেট অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন। তিনি পরে একজন ফিটনেস মডেল হিসেবে কাজ শুরু করেন।
১৯৯৯ সালে পুরুষদের ফিটনেস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রথম মহিলা হিসেবে উপস্থিত হন ম্যাকডুগাল। তাকে বিজ্ঞাপন এবং ছোটখাটো অভিনয়ের ভূমিকাতেও দেখা গিয়েছে। ২০০০ সালে নির্মিত চলচিত্র ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলসে’ একটি ক্যামিও চরিত্রেও দেখা যায় তাকে।
নিউইয়র্কের একটি ম্যাগাজিন জানায়, ম্যাকডুগালের মতে, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের প্লেবয় ম্যানশনে ট্রাম্পের সাথে প্রথম দেখা করেছিলেন। ট্রাম্প সেই সময়ে বিবাহিত ছিলেন। তিনি দেখামাত্র আমাকে পছন্দ করে এবং আমার সাথে কথা বলতে থাকে। তিনি আমাকে বলেছিল, আমি খুব সুন্দর।
ম্যাকডুগাল দাবি করেন, তাদের মধ্যে ১০ মাসের সম্পর্ক ছিল এবং তারা একে অপরের সাথে মাসে একাধিকবার দেখা করতেন।
‘ন্যাশনাল এনকোয়ারার’ নামক একটি ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় ম্যাকডুগালকে তার গল্প বলার জন্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি তাকে সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নিষিদ্ধ করেছিল। যদিও সেই প্রতিবেদনটি কখনই প্রকাশিত হয়নি।
২০২১ সালে, মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন কমিশন এনকোয়ারার এর প্রকাশকের বিরুদ্ধে ম্যাকডুগালকে তার গল্পের জন্য অর্থ প্রদান করে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করার প্রমাণ পায়। তিনি ২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় মিসেস ম্যাকডুগালকে অর্থ প্রদান করেছিলেন। ‘ন্যাশনাল ইনকোয়ারারকে’ এর জন্য ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫’শ ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
ম্যাকডুগালের ওয়েবসাইট অনুসারে, তিনি বর্তমানে নিজেকে একজন মডেল, কলামিস্ট, উকিল এবং মুখপাত্র হিসেবে বর্ণনা করেন।
২০১৮ সালে কথিত এই সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যাকডুগাল। তিনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প বরাবরই ম্যাকডুগালের সাথে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।







