গেল ১৬ জানুয়ারি সনি লিভে মুক্তি পেয়েছে মালায়ালাম সিনেমা ‘কালামকাভাল’। এরআগে গেল বড় পর্দায় সিনেমাটি মুক্তি পায় ৫ ডিসেম্বর। প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি ওটিটিতে মুক্তির পরও বেশ আলোচনায় মালায়ালাম তারকা মামুট্টি অভিনীত এই সিনেমা!
‘কালামকাভাল’ এমন এক থ্রিলার, যা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দর্শকের মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। সিরিয়াল কিলার নিয়ে ছবি— তাও আবার এক ডজনের বেশি খুন! শুনলেই যেখানে রক্তপাত আর নিষ্ঠুরতার প্রত্যাশা তৈরি হয়, সেখানে এই ছবির সবচেয়ে বড় চমক হলো এর সংযম! আশ্চর্যজনকভাবে পুরো সিনেমায় সহিংস দৃশ্য খুবই কম এবং ঠিক এই সংযমই ছবিটিকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।
পরিচালক জিথিন কে. জোসে-এর প্রথম ছবি হয়েও ‘কালামকাভাল’ আত্মবিশ্বাসী ও পরিণত। ছবির প্রথম খুনটি যেভাবে প্রায় নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ঘটানো হয়, সেটাই ঠাণ্ডা মেজারের ভায়োলেন্স-এর ইঙ্গিত দিয়ে দেয় যেন! কোরিয়ান থ্রিলারের অতিরিক্ত এক্সপ্লিসিট স্টাইল এড়িয়ে ‘কালামকাভাল’ গল্প বলার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও গভীর।
সিনেমার প্রমো দেখলেই বোঝা যায়, এখানে মামুট্টিই মূল প্রতিপক্ষ! এটা কোনো স্পয়লার নয়। নারী-বিদ্বেষী, বিকৃত মানসিকতার চরিত্র তিনি আগেও করেছেন, কিন্তু ‘কালামকাভাল’-এর স্ট্যানলি দাস যেন সেই পুরোনো ছায়া পেরিয়ে একেবারে নতুন এক অভিজ্ঞতা!
এটাই মামুট্টির জাদু। তাঁর অভিনয় এমন, যেখানে মনে হয় না অভিনেতা চরিত্রে অভিনয় করছেন; বরং চরিত্রটাই যেন তার ভেতরে ঢুকে পড়ছে।
ছবিটি বেশ কয়েকটি অধ্যায়ে ভাগ করা। প্রতিটি অধ্যায়ের আলাদা শিরোনাম, একেবারে যেন পুরোনো দিনের রহস্য উপন্যাস! হলুদাভ রঙের কালার প্যালেট, দাগ লেগে থাকা নোটবুক, ফেন্টন পেনে আঁকা নারী-প্রতিকৃতি; সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর, প্রায় ভূতের গল্পের মতো আবহ তৈরি হয়।
এই খুনি কে? কী তার পেশা? কেন সে এসব করছে? সে কি শুধু নারীদেরই হত্যা করে? মজার বিষয় হলো- ছবি এসব প্রশ্নের পেছনে ছোটে ঠিকই, কিন্তু আরও বড় কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দেয় দর্শকের দিকে। ‘কালামকাভাল’ প্রমাণ করে, থ্রিলারের মজা শুধু ‘খুনি কে?’ জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় খুনির পরিচয় দর্শক জানে, কিন্তু তদন্তকারীরা জানে না- এই ব্যবধান থেকেই তৈরি হয় আরও বড় টানটান উত্তেজনা। এই সিনেমাতে অন্তত এমনটাই দেখা গেছে। এমনকি শেষ ক্রেডিট চলার সময়ও বিস্ময় থামে না!
শুধু মামুট্টি নয়, অভিনেতা ভিনায়কানের পুলিশ চরিত্রটি তার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ারের সেরা কাজগুলোর একটি বলে মনে করছেন অনেকে। শুরুতে হালকা কৌতুক হিসেবে বলা তার চরিত্রের ব্যাকস্টোরি, ছবির একেবারে শেষে এসে গভীর অর্থ পেয়ে যায়- যা চুপচাপ গায়ে কাঁটা দেয়।
মুজিব মজিদের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ও গান ছবির অন্যতম বড় শক্তি। বিশেষ করে ছবির জন্য তৈরি একটি রেট্রো তামিল গান যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা সত্যিই বিরল ও শীতল অভিজ্ঞতা। দ্য উইক








