রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হুমায়ূন আহমেদ ও সাদাত হোসাইন এই তিন প্রজন্মের তিন লেখকের সাহিত্যচর্চাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘কাজল চোখের মেয়ে’। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে নাটকটি।
এই সময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিনের পরিচালনায় ১৪ দিনেই ইউটিউবে এর ভিউ দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই কোটি!
২৪ মিলিয়ন ভিউ পাওয়া নাটকটিতে দেখানো হয়েছে এমন এক মধ্যবিত্ত পরিবার, যেখানে নিয়মিত চর্চা হয় রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদ ও সাদাত হোসাইনের সাহিত্য।
গল্পজুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রসংগীত ‘খোলা হাওয়া’, হুমায়ূনের জনপ্রিয় চরিত্র হিমু-র অনুরাগ এবং সাদাত হোসাইনের বহুল আলোচিত কবিতা ‘কাজল চোখের মেয়ে’।
ফলে পুরো নাটকজুড়েই দর্শক পেয়েছেন বাঙালিয়ানার আবেগ, পারিবারিক বন্ধন এবং কাব্যিক অনুভূতির এক অনন্য মেলবন্ধন।
শুধু ভিউ নয়, নাটকটি নিয়ে প্রশংসায় ভরে উঠেছে মন্তব্যের ঘরও। নূরে সাব্বির নামে এক দর্শক লিখেছেন, “লিখে গেলাম, এই নাটক পাঁচ বছর পরও জনপ্রিয় থাকবে।” বেবি নামে আরেকজনের মন্তব্য, “আরে বাহ! পাক্কা এক ঘণ্টা ধরে চোখ বেয়ে পানি পড়ছে… কী বানাইলেন এটা?”
আরেক দর্শক জাহেদ আহমেদ লিখেছেন, “আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা নাটক এটি।” এমন শত শত ইতিবাচক মন্তব্যে ভরে গেছে নাটকটির কমেন্ট সেকশন।
জনপ্রিয় জুটি জোভান ও তটিনীকে নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন জাকারিয়া সৌখিন।
দর্শকদের এমন ভালোবাসায় উচ্ছ্বসিত নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার জাকারিয়া সৌখিন বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বাদ, ঘ্রাণ ও আবেগে ভরপুর একটি গল্প বলতে। যেখানে থাকবে সংস্কৃতি, সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং পারিবারিক বন্ধন। দর্শক আমাদের সেই প্রচেষ্টাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাতে আমরা সত্যিই আনন্দিত।”
নাটকে তটিনী অভিনয় করেছেন কাজল চরিত্রে এবং জোভানকে দেখা গেছে শুভ্র চরিত্রে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্নেহা, আনন্দ খালেদ, মিলি বাশারসহ আরও অনেকে।
একান্নবর্তী একটি পরিবারকে ঘিরে এগোলেও ‘কাজল চোখের মেয়ে’ কেবল পারিবারিক গল্প নয়। এটি মূলত ভালোবাসার গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পরিবার, সম্পর্ক, স্মৃতি এবং বাঙালিয়ানার আবেগ। সেই আবেগই দর্শকদের কাছে নাটকটিকে করে তুলেছে বিশেষ।
নাটকটি মুক্তি পেয়েছে ক্যাপিটাল ড্রামা ইউটিউব চ্যানেলে।

