অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর সিলেট আদালত থেকে জামিন পাওয়া সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে ঢাকায় আনা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার র্যাবের হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকায় আনা হয়েছে। ঢাকায় তার বিরুদ্ধে ৪/৫ টি মামলা আছে। এসব মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, বিচারপতি মানিককে সিলেট থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে৷ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৬ টায় তেজগাঁও পুরান বিমানবন্দরে তাকে বহন করা র্যাবের হেলিকপ্টার অবতরণ করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে। তাকে ঢাকার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে৷
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপ্স) ইসরাইল হাওলাদার বলেন, তিনি সিলেটের মামলায় জামিন পেলেও ঢাকায় তার নামে আরো চার পাঁচটি মামলা রয়েছে। ঢাকার একটি মামলায় তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুরের আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাবেক বিচারপতি মানিককে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মানবঢাল করে তাকে এজলাসে হাজির করেন। শুনানির সময়ে তার পক্ষে থাকা সরকার নিযুক্ত আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়। তবে দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকে আপাতত সিলেটের কারাগারে থাকতে হবে।
গত ২৩ আগস্ট রাতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দনা সীমান্ত থেকে মানিককে বিজিবি আটক করে।পরদিন বিচারপতি মানিককে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন সিলেটের আদালত।
তবে ওই দিন বিকেলে আদালতে তোলার সময় আলোচিত এই সাবেক বিচারপতিকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত জনতা হামলা চালায়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার অন্ডকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে ১২ সেপ্টেম্বর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মানিককে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপরেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মানিককে হাসপাতাল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।








