মামলায় নাম থাকলেই পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করবে না। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। নিরীহ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সমাজকে একটি সুষ্টু পরিবেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদস্যদের সঠিক কার্য়ক্রমের মাধ্যমেই জনগনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। জুলাই-আগস্টে পুলিশের কতিপয় সদস্য বাড়াবাড়ি করেছেন, আইনভঙ্গ করেছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। ৫ আগস্টের পর পুলিশ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
আইজিপি বলেন, সমাজকে একটি সুষ্টু পরিবেশে ফিরে আনার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদস্যদের সঠিক কার্য়ক্রমের মাধ্যমেই জনগনের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। পুলিশ সদস্যদের জনগণের সাথে বিনয়ী আচরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর কোন ধরনের অপরাধকে ছাড় দেয়া হবে না। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নিব।
বাহারুল আলম বলেন, ৫ আগষ্টের পর মামলায় নাম থাকলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। বিনা তদন্তে পাইকারি হারে গ্রেপ্তার নয়। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকলেই গ্রেপ্তার করা হবে।
গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়া সূত্র্রে জানতে পারছি, যারা হত্যার শিকার হয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ জীবিত ফিরে আসছেন। সেক্ষেত্রে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম কিভাবে পরিচালনা করবেন?
এ ব্যাপারে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, মামলায় বলা হয়েছে মারা গেছেন। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে মারা যাননি। এক্ষেত্রে বাদী যদি না জেনে, না বুঝে মামলা করে থাকেন তাহলে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়েরের অভিযোগ আসবে না। সেই মামলায় শুধু ফাইনাল পুলিশ রিপোর্টই হবে। বাদীর বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন হবে না।
কিন্তু যদি ইচ্ছেকৃত বা উদ্দেশ্যমূলক মামলা করে থাকেন তাহলে আইনে বলা আছে যে, জেনেশুনে কেন জীবিত মানুষকে মৃত বলে মিথ্যে মামলা করলেন? এক্ষেত্রে ওই ২১১ ধারায় বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বাদীকেই। এটাই আমাদের অনুসরণ করা উচিত। আমরা সেটাই চেষ্টা করবো।
ছাত্র-জনতার বিপক্ষে কতজন পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য জড়িত ছিল? তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন: এটা তো তদন্ত সাপেক্ষ। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে অনেক মামলা হয়েছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। অনেকে নির্দোষ কিন্তু আসামি হয়েছেন। আবার অনেকে দোষী কিন্তু শনাক্ত হয়নি বলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
আইজিপি বলেন, ২ লাখ ১৩ হাজার পুলিশের কতজন বিপক্ষে ছিল তা খুঁজে বের করা সত্যিই কঠিন। তবে এটা করবোই। এটা করতেই হবে। পুলিশ বাহিনীর জন্যই করতে হবে।
এসময় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদসহ পুলিশের পলাতক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোথায় আছেন এখনো তা শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন মহাপরিদর্শক।
বাহারুল আলম বলেন বলেন, এদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আমার প্রধান দায়িত্ব। পুলিশের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। জনগণের সঙ্গে বিনয়ী ব্যবহার করতে হবে পুলিশকে। সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশকে জনবান্ধব করতে হবে।








