এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মধ্যরাতের আকাশে রংবেরঙের আলোয় ২০০০ ড্রোনের প্রদর্শনীতে পালিত হলো ‘জুলাই উইমেন্স ডে’। গত বছরের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মেয়েরা বেরিয়ে এসে জুলাই আন্দোলনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছিল, যার মধ্য দিয়ে পতন হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে সেই দিনটিকে ‘জুলাই কন্যা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করা হয়।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পুর্নজাগরণের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।
ঘড়ির কাটায় তখন রাত সাড়ে এগারোটা। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আগত শত শত উল্লাসিত ছাত্র জনতা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আকাশের দিকে। মুহূর্তেই ২ হাজার ড্রোনের আলোকসজ্জা ও কারুকার্যে আকাশে ভেসে ওঠে ১৪ ই জুলাই এর প্রতিচ্ছবি।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সময়ের গুম, হত্যা, ধর্ষণ, লুটতরাজ ও নৈরাজ্যসহ নানা বিষয় উঠে আসে ড্রোনের এই প্রদর্শনীতে। এরপর পর্যায়ক্রমে আকাশে ভেসে ওঠে বিডিআর বিদ্রোহ, গুম হওয়া ইলিয়াস আলী, আরমান, মাইকেল ও সুমনের প্রতিচ্ছবি।

এছাড়াও প্রদর্শনীতে ফুটে ওঠে শাপলা ম্যাসাকার, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড, সরকারের মদদ পুষ্ট লুটপাট কারীদের ছবি, লাইলাতুল ইলেকশনের ইতিহাস।
এরপর প্রায় দশ মিনিট একে একে ‘১৪ জুলাই,’ ‘পোস্ট ডিলিট করো,’ ‘তুমি কে, আমি কে,’ ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,’ ‘জন্মভূমি অথবা মৃত্যু,’ ‘শোনো মহাজন, আমরা অনেকজন’- এসব স্লোগান তুলে ধরা হয় এই ড্রোন প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীর শেষে ড্রোনগুলো ফিরে যায় পশ্চিম আকাশে।
গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি পুনর্জাগরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবী সংগীত শিল্পী ও জুলাই যোদ্ধা ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান ‘এই মেয়ে শোন’, আমি জুলাইয়ের গল্প বলবো’, ‘আমার নাম প্যালেস্টাইন’, প্রভৃতি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এরপর দিপক কুমার গোস্বামী ‘স্পিকিং’ ও ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ চলচ্চিত্রসমূহ যথাক্রমে প্রদর্শিত হয়।

এ সময় দর্শক সারীতে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান, নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সহ সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক উমামা ফাতেমা বলেন, “জুলাই কারো একার না। জুলাই সবার, জুলাই পুরো বাংলাদেশের। আমরা জুলাই বিক্রি করি না, কাউকে বিক্রি করতেও দেবো না।”
জুলাই আন্দোলনের আরেক সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম বলেন “মেয়েদের জন্য আলাদা করে একটা অনুষ্ঠান করতে হবে, এরকমটা আমরা চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম একটা পরিবর্তন হোক। জুলাইয়ের এতগুলো মেয়ে এখন কেন নাই, কেন তাদেরকে আলাদা করে এড্রেস করা লাগে? বাকি দিনগুলোতে তারা সম্মান পায় না? এই কথাগুলো বলা দরকার।”
জুলাইয়ে নারী হিসেবে নয়, নাগরিক হিসেবে পথে নেমেছিলেন বলেও জানান নুসরাত তাবাসসুম।
স্লোগান গার্লরা মঞ্চে এসে স্লোগান দেয়ার পর পারসা মাহজাবীন ‘চলো ভুলে যাই’, ‘মুক্তির মন্দির’ ও ‘মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম’ গান পরিবেশন করে। ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’, ‘পলাশীর প্রান্তর’, ‘ঘুরে দাঁড়াও’ ও ‘বাংলাদেশ’ গানসমূহ পরিবেশন করেন শিল্পী এলিটা করিম। এফ মাইনর আলো আসবেই, ডাহুক ও মেয়ে গানসমূহ পরিবেশন করেন।
এভাবেই বর্নাঢ্য আয়োজনে সমবেত ও একক সংগীত পরিবেশন এর মধ্য দিয়ে ১৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান শেষ হয়।







