জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। ব্যালট বাক্সগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে সিনেট ভবনে পাঠানোর পর সেখানে শুরু হয়েছে গণনা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পৃথক ২১টি কেন্দ্রে চলে ভোট গ্রহণ।
এ বিষয়ে ২১ নম্বর ছাত্র হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সকাল থেকেই খুব উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ করেছি। আমাদের কেন্দ্রে প্রত্যাশার থেকে বেশি ভোট পড়েছে। এখন আমরা ব্যালটগুলো সিনেটে পাঠাব, এরপর নির্বাচন কমিশন হয়তোবা গণনার প্রক্রিয়া শুরু করবে।’
প্রায় ৩৩ বছর পর হওয়া জাকসু নির্বাচনের দিনটি কাটলো প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে। ভোট গ্রহণ শুরুর ৬ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের প্যানেল। আর পোলিং এজেন্টেসহ কয়েকটি বিষয়ে অসঙ্গতি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবিরের প্যানেল।
সমন্বিতভাবে ওঠা বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) প্যানেলের অনাস্থা। তাদের অভিযোগ, এই নির্বাচন যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে না। এই অনিয়ম শুরু হয়েছে সম্প্রীতির ঐক্যের ভিপি প্রার্থী অমর্ত রায়ের প্রার্থিতা জোরপূর্বক এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাতিল করার মধ্য দিয়ে।
নির্বাচনে বিচ্ছিন্নভাবে ওঠা বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে, দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়া, ব্রেইল না থাকায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ভোট অন্যজনের দেওয়ায় বিপত্তি, বিভিন্ন হলে আধা ঘণ্টার মতো ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকা, ভোটারদের সারি থাকার পরও কয়েক ঘণ্টায়ও প্রত্যাশিত সংখ্যক ভোট না পড়া, ভোটদানের পর আঙুলে অমোচনীয় দাগ না দেওয়া।
এ ছাড়া, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসংগতি, গাফিলতি, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের তিন শিক্ষক।
তাদের মধ্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রশাসন শুরু থেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছে। নানা অনিয়ম, কারসাজি করছে। এরকম একটা নির্বাচনের দায়ভার আমাদের নেওয়া উচিত না। প্রতিবাদের জায়গা থেকে আমরা দায়িত্বশীল শিক্ষকরা এই নির্বাচনকে বর্জন করলাম।
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ এবং ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন, যুগ্ম সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সম্পাদক (পুরুষ) পদে লড়ছেন ১০ জন প্রার্থী। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হল সংসদ নির্বাচনও।
প্রতিটি হলে থাকছে ভোটকেন্দ্র—যার মধ্যে ১১টি ছাত্রদের জন্য এবং ১০টি ছাত্রীদের জন্য। ২২৪টি বুথে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করবেন ১৩৪ জন পোলিং অফিসার ও সহকারী। নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, সব ভোটকেন্দ্র মনিটরিং রুম থেকে নজরদারিতে থাকবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে ১২০০ পুলিশ সদস্য, সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি প্রবেশদ্বারে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। ভোট শেষে ফলাফল গণনা হবে পুরাতন রেজিস্টার ভবনের সিনেট হলে। ছাত্রী ভোটকেন্দ্রে নারী সাংবাদিক পাঠানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।








