গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও শেষবারের মতো বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে দেরি হওয়ায় তিনি যখন এলাকায় পৌঁছান তখন জানাজা শেষ হয়ে যায়। পরে পুলিশি কঠোর পাহারায় হাতকড়া পড়া অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করেন তিনি।
জানা যায়, গত বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় জেল হাজতে আটক রয়েছেন যুবলীগ নেতা চঞ্চল।
চঞ্চল মিয়ার বাবা কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক গত শনিবার ৭ মার্চ রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান। আজ রোববার ৮ মার্চ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রবিবার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মুক্তি পান। পরে পুলিশের কঠোর পাহারায় তাকে ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়।
কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই বাবার জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে নিয়ে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান চঞ্চল মিয়া। দাফন শেষে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।
দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে চঞ্চল মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি এক হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তার পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি বাবার জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’’
চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, “আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাকে আটক করে কোটালীপাড়া থানা পুলিশের দায়ের করা ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় আমার স্বামীকে। আমার স্বামী নিরপরাধ।’’








