আমরা জনতা পার্টি বাংলাদেশ নিম্নোক্ত রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃবৃন্দ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করছি যে, অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে জাতিকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করে ফেলেছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট অনুষ্ঠানের নিমিত্তে কোন সাংবিধানিক সংস্কার আদেশ জারির এখতিয়ার বর্তমান সরকারের নেই। এর এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রপতির। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংবিধানসম্মত অবস্থানকে আমরা সমর্থন করছি। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি এই দলের অতি আস্থা বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ।
রোববার ২ অক্টোবর জনতা পার্টি বাংলাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জনতা পার্টি বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন, মহাসচিব শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সভাপতি মহসীন রশিদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু, জাগপার সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু।
স্বাক্ষরকৃত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ঐকমত্য কমিশনের বিতর্কিত প্রস্তাবসমূহ অন্তর্বর্তী সরকারেরই প্রস্তাব। কমিশনের রিপোর্টে সরকার প্রধানের স্বাক্ষর রয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মত প্রকাশে বলেন, যেহেতু এই সরকার প্রস্তাবাবলির পক্ষে গণভোট এবং তাতে ‘হ্যাঁ’ সূচক মতামত প্রত্যাশী, সেহেতু এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ ভোট আয়োজন কতখানি সুষ্ঠু হবে, ভেবে দেখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, বর্তমান অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সব রাজনৈতিক মহলই প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে একে কেয়ারটেকার বা নির্বাচনী সরকারের আদলে ফিরে যেতে। কিন্তু ড. ইউনুসের উপদেষ্টা পরিষদ দৃশ্যত তাতে অসম্মতি জানিয়ে বলেছে, এই সরকারই নির্বাচন পর্যন্ত থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদিও বাছাই করা অল্প সংখ্যক দলের সম্মতিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছে, তবু এর রাজনৈতিক মূল্য অপরিসীম। এই দলিলই যথেষ্ট, যা ভবিষ্যতের সংসদ, সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আলোকে সংবিধান সংস্কার ও দেশ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এবং এর বাস্তবায়নে অনির্বাচিতদের ডিকটেশন কু-নজির সৃষ্টি করবে।





