সাংবাদিক সরাফ আহমেদ এর লেখা ‘১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড, প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার দুঃসহ দিন’ বইটি পাঠক মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ইতোমধ্যে বইটির ষষ্ঠ মুদ্রণ ছাপা হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতি শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সাংবাদিককে সংবর্ধনা দিয়েছে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন’।
এসময় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক ছাড়াও রাবিসাস আলামনাই এর আহ্বায়ক কে এম শহীদুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক রব মজুমদার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সাংবাদিক তারিক উল ইসলাম, চ্যানেল আই এর বিশেষ প্রতিনিধি জান্নাতুল বাকেয়া কেকাসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকায় ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সঙ্গে ছিলেন ওয়াজেদ মিয়া এবং শেখ হাসিনার দুই শিশুসন্তান জয় ও পুতুল। প্রবাসে তখন যে অনিশ্চিত জীবনে রুদ্ধশ্বাস সময় পার করেন আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার স্বামী, ছোট্ট দুই শিশু সন্তান ও ছোট বোন রেহানা সেই সব দিনের কঠিন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন সরাফ আহমেদ তার বইটিতে।
আনিসুল হক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেন, সরাফ আহমেদ এমন একজন সাংবাদিক যিনি ঘটনার অনুসন্ধান করে একেবারে ঘটনার কাছাকাছি থেকে লেখেন। ঘটনার একেবারে প্রাথমিক সোর্স থেকে লেখায় তার লেখনিতে প্রকৃত তথ্যটি উঠে আসে। সেকেন্ডারি সোর্স ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরাফ আহমেদ বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন, স্বামী সন্তানসহ অতীতের ঘটনাবহুল দিনগুলো তার বইতে তুলে ধরেন। বইটিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অতীতের কষ্টকর ঘটনাবহুল স্মরণীয় দিনগুলো বণর্নায় তিনি সেই সব দিনে স্বামী ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা ও রেহানার চিঠিসহ নানান দূর্লভ আর্কাইভ থেকে অনুসন্ধান করা ঘটনার খুটিনাটি তুলে ধরেছেন।
রাজশাহীর কৃতি সন্তান সরাফ আহমেদ প্রথম আলোর জার্মান প্রতিনিধি। জার্মানীর হ্যানোভারে থাকার সুবাদে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি ইউরোপ নিয়ে লিখেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে স্নাতক ও করা এই সাবেক শিক্ষার্থী জার্মানীর হ্যানোভারে ২৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ, বর্ণবাদ, শরণার্থী ও আন্তসাংস্কৃতিক সংহতি নিয়ে কাজ করছে।







