চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Channeliadds-30.01.24Nagod

নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী দলগুলোর যৌথসভা

একতরফা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ নভেম্বর বিকেলে তোপখানা মোড়ে শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, আমরা রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে আসছি।

আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারকৃত সকল রাজবন্দীদের মুক্তি এবং বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ব্যবস্থা ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে যুগপৎ ধারায় এক আন্দোলনে আছি। এই দাবিগুলো ইতোমধ্যে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

গণদাবির এই আন্দোলনে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে সরকার ও সরকারি দল গত ২৮ অক্টোবর বিএনপিসহ বিরোধী দলসমূহের মহাসমাবেশ পণ্ড করে দেয়। বিএনপিসহ বিরোধীদের উপর এই দায় চাপিয়ে গত এক মাস দমন নিপীড়ন ও গ্রেপ্তারের পথে দেশব্যাপী তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকার ও সরকারি দলের এইসব নৃশংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। এছাড়া নিহত, আহত ও কারাবন্দীদের পরিবারের প্রতি আমরা সহমর্মীতা প্রকাশ করছি।

Reneta April 2023

আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি সরকারের পদত্যাগের গণদাবিকে উপেক্ষা করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি একতরফা নীলনকশার নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। সরকারের এই রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সরকারের সহযোগী হিসেবে নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। পাতানো এই নির্বাচনের অংশ হিসেবে আজ ৩০ নভেম্বর কথিত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখও নির্ধারণ করেছে।

জনগণের ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সমগ্র এই নির্বাচনের তফসিলকে আমরা প্রত্যাখান করছি।

আমরা অনতিবিলম্বে ৭ জানুয়ারি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনতিবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরি রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

আমরা পরিষ্কার করে উল্লেখ করতে চাই, সরকার যদি জেদ, অহমিকা নিয়ে জবরদস্তি করে নির্বাচনের নামে আরেকটি তামাশা মঞ্চস্থ করতে চায়, তাহলে সরকারের এই অশুভ তৎপরতা প্রতিরোধ করা ছাড়া দেশবাসীর সামনে অন্য কোন পথ থাকবে না।

আমরা সরকার ও সরকারি দলের সকল ধরনের উস্কানি, সহিংসতা ও পরিকল্পিত নাশকতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান গণ আন্দোলন ও গণসংগ্রামকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই। এই আন্দোলনে সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশা ও সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সভাপতি ও প্রবীণ নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যার ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

উপস্থিত ছিলেন- গণদলের চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুতফর রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহাসচিব ভারপ্রাপ্ত মমিনুল আমিন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. হাসনাত কাইয়ূম। মুফতি মুহিউদ্দিন ইকরাম- মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এম এন শাওন সাদেকী- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ন্যাপ। মো. আবুল কাশেম- মহাসচিব, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি। ড. মো. নেয়ামুল বশির- প্রেসিডিয়াম সদস্য, এলডিপি। হারুন আল রশিদ খান- মহাসচিব, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল। কমরেড হারুন চৌধুরী- সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম এল)। পারভীন নাসের ভাসানী- কো চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি। অ্যাড. মো. আজহারুল ইসলাম- চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী)। শামসুল আহাদ- ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় দল। অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল করিম- ইসলামী ঐক্য জোট। রাশেদ প্রধান- সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

লায়ন মো. ফারুক রহমান- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি। শাহাদাত হোসেন সেলিম- মহাসচিব, বাংলাদেশ এলডিপি। অ্যাড. তাজুল ইসলাম- যুগ্ম আহ্বায়ক, এ বি পার্টি। ডা. সামছুল আলম- সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি। ফারুক হাসান- সদস্য সচিব, গণ অধিকার পরিষদ। আবুল কালাম আজাদ- আহ্বায়ক, সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। বাবুল সরকার চাখারী- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি। মাহমুদুর রহমান মান্না- সভাপতি, নাগরিক ঐক্য। শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন- সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। জোনায়েদ সাকি- প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন। শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু- আহ্বায়ক, ভাসানী অনুসারী পরিষদ।

সুব্রত চৌধুরী- সাধারণ সম্পাদক, গণফোরাম। কারী আবু তাহের- চেয়ারম্যান, এডিপি। সাইফুল হক- সাধারণ সম্পাদক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। নুরুল হক নূর- সভাপতি, গণঅধিকার পরিষদ। জাভেদ সালাউদ্দিন- প্রেসিডেন্ট, জাস্টিস পার্টি। শাহ আহমেদ বাদল- মহাসচিব, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ। ব্যারিস্টার নাসিম খান- চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ। কমরেড ডা. নুরুল ইসলাম- বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এবং খোকন চন্দ্র দাস- সভাপতি, ডিএল।