সরকারি অনুদানে নির্মিত হয়েছিল ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘ঘুড্ডি’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারের অনুদানের খাতটি নিয়ে নয়ছয়-এর অভিযোগ উঠছে।
রুচিশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনুপ্রেরণা দিতে সরকার সরকারি অনুদান প্রবর্তন করলেও বিগত একযুগ ধরে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র!
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ২০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে অনুদান দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রত্যেক প্রযোজক ৭৫ লাখ টাকা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রযোজকরা ২০ লাখ টাকা করে পাবেন। সব মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৯ কোটি টাকা। এবারও অনুদান ঘোষণার পর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অনুদানের পুরো টাকাটাই বৃথা যায়!
দেশের নামী প্রযোজক ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ নিজেও ‘সিনেমায় অনুদান’-এর বন্ধ করে দিতে বলছেন। তিনি বলেন, অনুদান না দিয়ে যদি সিনেপ্লেক্স বানিয়ে দেয়া হতো তাহলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির লাভ হতো। অনুদানের ১২ কোটি টাকা আমাকে দিলে ৪টি সিনেপ্লেক্স বানাতাম। আমি সবসময় বলে আসছি, অনুদান বন্ধ করে দেন। এই অনুদান সিনেমা শিল্পের উপকার হয়না।
অগ্নি, শিকারী, নবাব, পোড়ামন, পোড়ামন ২ ছবির প্রযোজক আবদুল আজিন বলেন, অনুদান দিলে সিনেমা কখনো আগাবে না, বরং পিছিয়ে যাবে। যে টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে সেগুলো দিয়ে যদি সিনেপ্লেক্স বানানো হতো চলচ্চিত্রের উপকার হতো। সিনেপ্লেক্স বানালে আমাদের দেশের সিনেমা এগিয়ে যাবে। এই অনুদানের সিনেমা তো হলে চলেই না বরং দর্শকদের হল বিমুখ করে। আগে অনুদান দিত ৬০ লাখ টাকা, যে অনুদান পেত সে সিনেমা বানাতো ৪০ লাখ টাকা বা আরও কমে। তাহলে সেই সব সিনেমা দর্শক দেখবে কেন?
সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আবদুল আজিজ বলেন, অনুদান না দিয়ে সেই টাকা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ব্যয় করুন। যেমন: এফডিসিতে বিশ্বমানের ক্যামেরা আনেন অথবা সরকারী উদ্যোগে সিনেপ্লেক্স বানান। সিনেমায় আপাতত এই দুইটার বাইরে আর কোনো উন্নয়ন নাই।
২০১২ সালে ‘ভালোবাসা রঙ’র মাধ্যমে সিনেমা প্রযোজনা শুরু করেছিলেন আবদুল আজিজ। প্রতিষ্ঠা করেন জাজ মাল্টিমিডিয়া। সেখান থেকে যেমন বহু সুপারহিট সিনেমা নির্মিত হয়েছে, তেমনি জাজের মাধ্যমে বাপ্পী চৌধুরী, মাহিয়া মাহি, রোশান, নুসরাত ফারিয়া, সিয়াম, পূজা চেরীরা সিনেমায় এসেছেন। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনায় দুই বাংলায় সাড়া জাগানো শিকারী, নবাব, বস ২, বাদশা’র মতো সিনেমা বানিয়েছিলেন।
তবে গেল কয়েকবছর ধরে জাজ মাল্টিমিডিয়া নিয়মিত সিনেমা বানাচ্ছেন না। জাজের ব্যানারে দু-একটি সিনেমা আসলেও সেগুলো আলোচনা তৈরি করতে পারছে না। কিন্তু কেন? আবদুল আজিজ বলেন, জাজ এখন কিছুটা অবজার্ভে আছে। মনে হচ্ছে, আমাকে সেই আগের ফরম্যাটে নতুন নায়ক-নায়িকাকে কাজে ফিরে যেতে হবে। এটাই জাজের স্টাইল, এটাই আইকন। চেষ্টা করছি, আগের মতো নতুনদের নিয়ে ফিরে আসার।







