এ বছর ভারতে ফিল্মফেয়ার বাংলায় মনোনয়নেই ছিল বাংলাদেশিদের চমক! বেশ কজন তারকার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথপ্রযোজনার ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছিলো আলোচনায়।
শুক্রবার রাতে কলকাতায় ফিল্মফেয়ারে সর্বোচ্চ সাতটি বিভাগে পুরস্কৃতও হয় ‘মায়ার জঞ্জাল’। যে সিনেমার সাথে অবধারিতভাবে জুড়ে আছে বাংলাদেশ! কেননা এটির অন্যতম প্রযোজক বাংলাদেশের জসীম আহমেদ।
ব্যক্তিগত কারণে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সেই আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারেননি জসীম আহমেদ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর ফিল্মফেয়ারের আসর শুরু হতেই নিজের ফেসবুকে আপডেট দিচ্ছিলেন তিনি। চোখ রাখছিলেন কার কার হাতে উঠছে ব্ল্যাকলেডি! অনুষ্ঠান শেষ হতে রীতিমত উচ্ছ্বসিত এই প্রযোজক! গুনেগুনে ৭টি ‘ব্ল্যাকলেডি’ যে ‘মায়ার জঞ্জাল’ এর ঘরে উঠলো!
তবে এই ছবির জন্য অনেকেই মনে করেছিলেন, সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া গুণী অভিনেত্রী অপি করিমের হাতে উঠতে পারে পুরস্কার! যদিও সেটা হয়নি। এ নিয়ে অনেকের দীর্ঘশ্বাস দেখা গেছে ফেসবুক পাতায়!
বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর ‘মায়ার জঞ্জাল’ আলোচকদের প্রশংসা পেলেও খুব বেশী দর্শক সমাদৃত হয়নি। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই শনিবার বিকেলে জসীম আহমেদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছিলো,‘ফিল্মফেয়ার বাংলায় ৭টি পুরস্কার জিতলো ‘মায়ার জঞ্জাল’! সর্বোচ্চ বিভাগে পুরস্কার জয়ের উচ্ছ্বাস তো আছেই, বেদনাও কি আছে?’
এমন প্রশ্নে জসীম আহমেদ বলেন, “যারা কাজ করে তারাতো নিজের আবেগেই কাজটা করে যায়। সেই কাজকে যদি কেউ স্বীকৃতি দেয়, সেইটা নিজের মধ্যে একটা শক্তি তৈরী করে। ফিল্মফেয়ারে ৭টা ক্যাটাগরিতে সেরার অপ্রত্যাশিত পুরস্কার প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। পুরো টিম আসলে এই ছবিটা করতে গিয়ে একটা লম্বা জার্নির মধ্যে ছিলো। বারবার আনন্দিত হওয়ার উপলক্ষও পেয়েছি আমরা। সেই যাত্রায় ছোটখাটো বেদনা আসলে তুচ্ছ।”
সামনেও কি এরকম যৌথপ্রযোজনার পরিকল্পনা আছে কিনা, জানতে চাইলে জসীম আহমেদ বলেন,“আমরাতো একটা ভালো এবং সৎভাবেই ছবিটা বানাতে চেয়েছিলাম এবং সেভাবেই পুরো টিম নিজেদের সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়েছে বলে সাফল্য এসেছে। আমরা একটা টিম। এখনো যৌথ প্রজেক্টকে প্রাধান্য দিতে চাচ্ছি। কিন্তু দুই বাংলার যৌথ প্রজোযনার যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তা প্রতি পদে পদে বাধাগ্রস্ত করে। সেই যুদ্ধ জেনেও আমরা আরেকটা চেষ্টা করছি।”
যে সাত বিভাগে পুরস্কার জিতলো ‘মায়ার জঞ্জাল’
সমালোচনা বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার ছাড়াও ‘মায়ার জঞ্জাল’ সেরা চিত্রনাট্য (ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী ও সুগত সিনহা), সেরা নবাগত অভিনেতা (সোহেল রানা মন্ডল), সেরা চলচ্চিত্র সম্পাদনা (সুমিত ঘোষ), সেরা শব্দ বিন্যাস (শুভদীপ সেনগুপ্ত), সেরা চিত্রগ্রহণ (ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়), সেরা পোশাক পরিকল্পনা (ঋতারুপা ভট্টাচার্য) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে।








