শিজুও আইশিমা নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত ও মিথ্যা অভিযোগের দায় স্বীকার করে তার কবরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে টোকিও পুলিশ। এ সময় প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষও ছিল ।
মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার ইয়োকোহামায় আইশিমার কবরে গিয়ে ফুল অর্পণ ও ক্ষমা চান তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের ভুলের জন্য কবরে গিয়ে ক্ষমা চান টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-সুপারিনটেনডেন্ট জেনারেল তেতসুরো কামাতা, সুপ্রিম পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিসের তাকাশি কোইকে এবং টোকিও ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটরস অফিসের হিরোশি ইচিকাওয়া। এ সময় সেখানে আইশিমার স্ত্রী ও দুই সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
ওহকাওয়ারা কাকোহকি নামের একটি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ছিলেন শিজুও।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চ মাসে যন্ত্রপাতির অবৈধ রপ্তানিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিজুও আইশিমা এবং আরও তিনজন নির্বাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও জামিন দেননি আদালত। টানা ৮ বার জামিন আবেদনে ব্যর্থ হওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি পান। তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাকস্থলীর ক্যান্সারে মারা যান।
পরে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে আইশিমাকে নির্দোষ প্রমাণ করা হয়েছিল। একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট মাসাকি ওকাওয়ারা ও সাবেক পরিচালক জুনজি শিমাদাকে মুক্তি দেওয়া হলেও জীবিত থাকা অবস্থায় ন্যায়বিচার পাননি আইশিমা।
টোকিও হাইকোর্ট পরে এই তিনজনের বিরুদ্ধে আনা গ্রেপ্তার ও অভিযোগকে মিথ্যে প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেন এবং রাষ্ট্র ও টোকিও প্রশাসনকে মোট ১৬৬ কোটি ইয়েন ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন। আদালত তদন্তকারীদের ‘অবিচার ও বেআইনি প্রক্রিয়া’ ব্যবহারের জন্য কঠোর সমালোচনাও করেন।
আইশিমার কবরে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনার সময় প্রসিকিউটর ইচিকাওয়া বলেন, ‘আমরা ভুলভাবে আটক ও অভিযোগ এনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছি” এবং জামিন না’ মঞ্জুরের কারণে তাঁর চিকিৎসার সুযোগও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
২০২৩ সালে আরেকটি বহুল আলোচিত ঘটনায়, প্রায় ছয় দশক কারাবন্দী থাকার পর নির্দোষ প্রমাণিত ইওয়া হাকামাদার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন শিজুওকা প্রিফেকচার পুলিশের প্রধান।
এই ঘটনাকে জাপানের বিচারব্যবস্থায় ভুল স্বীকারের দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখা হয়।








