সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন প্রতীক দাঁড়িপাল্লা পুনর্বহাল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দলটির নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৯০-খ অনুযায়ী ২০০৮ সালের ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলকে নিবন্ধন (নিবন্ধন নম্বর-০১৪) প্রদান করে ইসি। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ২০০৯ এর ৬৩০- এর রায়ের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৩৯ নম্বর দেওয়ানি আপিলের সাথে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি আবেদন নং ৩১১২ নম্বর মামলায় আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি জানায়, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর জারি করা নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন দলীয় প্রতীকসহ পুনর্বহাল করা হলো।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সর্বসম্মত রায়ে জামায়াতকে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। পরবর্তীতে ৪ জুন নির্বাচন কমিশন ওই রায়ের আলোকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২৪ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে তা বাস্তবায়ন করে।
মঙ্গলবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মহান আল্লাহর মেহেরবাণীতে আমরা দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ নিবন্ধন ফিরে পেয়েছি। এজন্য তাঁর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের ভাবনা, মতাদর্শ ও ভোটাধিকার গণমাধ্যমের মাধ্যমেই দেশ-বিদেশে প্রতিফলিত হয়। কীভাবে একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকার জুলুম চালিয়েছে এবং আমাদের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছিলো সব ইতিহাস দেশবাসীর জানা আছে।
তিনি আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনে জামায়াত বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে আমাদের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। মূলত ২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের ভিত্তিতে এই আদেশ আসে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছর ১ জুন আপিল বিভাগে আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাই এবং আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হলো।
আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করা আইনজীবী, সাংবাদিক এবং দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে দোয়া করেছেন। আমরা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ।








