‘মহানগর’, ‘পরাণ’, ‘অসময়’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, ‘উৎসব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো জনপ্রিয় কনটেন্টে মিউজিকে কাজ করেছেন জাহিদ নিরব। তার আগে থেকে তিনি গায়ক ও সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন, যুক্ত ছিলেন চিরকুট ব্যান্ডেও।
এবার জাহিদ নিরব আসন্ন ঈদুল আযহার জন্য নির্মিত তারকা অভিনেতা শাকিব খানের ‘রকস্টার’-এ বিজিএমসহ একাধিক গানের মিউজিক করছেন। এতে করে ভীষণ উচ্ছ্বসিত তিনি।
গেল সপ্তাহে রাজধানীর নিকেতনে তার ‘সাউন্ড অব সাইলেন্স’ স্টুডিওতে কাজের ফাঁকে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে জাহিদ নিরব জানাচ্ছিলেন, ‘রকস্টার’ তার কাছে একটি এক্সাইটিং জার্নি।
তিনি বলেন, এই ধরনের এনার্জি ড্রিভেন (তীব্র গতিশীল) সিনেমাতে কাজ করতে গেলে নিজের ভেতরের আগুনটাও জ্বালিয়ে রাখতে হয়। আমার কাছে ‘রকস্টার’ প্রজেক্ট একেবারে নতুন প্রেজেন্টেশনের কাজ।
মূলত মিউজিক্যাল সিনেমা হিসেবে নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’। এ কারণে এর গানগুলোর প্রতি সবার আকর্ষণ থাকবে। জাহিদ নিরব বলেন, যেহেতু রকস্টারের জীবনী নিয়ে সিনেমা, তাই সবার আগে আমি বাস্তব জীবনের সব রকস্টারদের এই প্রজেক্টে যুক্ত করেছি। নেমেসিস ব্যান্ডের গিটারিস্ট ইফাজ, অ্যাভয়েড রাফা ব্যান্ডের ব্যাসকিং পাভেল, লিজেন্ডারি ব্যাসিস্ট তানিম ভাই যিনি সোলস, দলছুট, প্রয়াত শ্রদ্ধেয় আইয়ুব বাচ্চুসহ সবার সাথে বাজিয়েছেন। নিঃশব্দের তওকির তাজাম্মুল, সামিউল মমিথ, মেহেদী হাসান তামজিদসহ আরও অনেকে যুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘রকস্টার’ মানেই কাঁচা এনার্জি, এক ধরনের দ্রোহ, আর একটা আলাদা সোয়াগার। আমি মিউজিকে সেই ভাইবটা ধরার চেষ্টা করেছি হেভি গিটারস, পাঞ্চি ড্রামস আর একটা অ্যাগ্রেসিভ গ্রুভ দিয়ে। কিন্তু শুধু জোরে বাজালেই রকস্টার হওয়া যায় না, নীরবতার মধ্যেও একটা এটিটিউড থাকে। তাই ডায়ানামিকস নিয়ে খেলেছি, যেন প্রতিটা মুহূর্ত ইমপ্যাক্টফুল লাগে।
যেহেতু এটা সিনেমা, তাই ফিল্মি সাউন্ড মাথায় রেখে সংগীতায়োজন সাজাচ্ছি। দেশের বাইরে থেকে ভায়োলিন, চেলোসহ বেশ কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট রেকর্ড করছি।
আলাপকালে জাহিদ নিরব জানালেন, রকস্টার-এর বিজিএম পুরোপুরি মৌলিক করার চেষ্টা করছেন। তিনি যেমনটা বললেন, বিজিএম-এর কাজ চলছে। চেষ্টা করছি গল্পের সাথে মানিয়ে মিউজিক করতে। কোন বিশেষ অনুপ্রেরণা যেন না থাকে। রকস্টারের মিউজিক যেন ইউনিক এবং নিজস্ব ধরন তৈরি করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিরেক্টরের সাথে সামঞ্জস্য হওয়া। আশা করি ভালো কিছু হবে।
‘রকস্টার’ সিনেমার প্রাণ ভোমরা মেগাস্টার শাকিব খান নিজেই। বিগত কয়েক বছরে এই তারকা তার সিনেমাগুলো দিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিত পেয়েছেন। পাশাপাশি শাকিবের প্রতিটি কাজ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচকরাও কথা বলেছেন। সেইদিক মাথাও নিয়ে কাজ করছেন জাহিদ নিরব। সেই সঙ্গে শাকিবের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করাটা তার জন্য নিঃসন্দেহে একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা বলে জানান।
জাহিদ নিরবের ভাষ্য, শাকিব খান শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ ও ভালোবাসার নাম। এক কথায় ‘ফেনোমেনন’। পর্দার তার উপস্থিতি এতটাই শক্তিশালী যে, মিউজিককে তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে বরং তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে কাজ করতে হচ্ছে। এটি যেমন বড় দায়িত্ব তেমনি সংগীত পরিচালকের জন্য একটি সম্মানের বিষয় বলেও মনে করছি।
তিনি বলেন, সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে শাকিব খান ‘অরা’-কে। শাকিব খান-এর লার্জার-দ্যান-লাইফ ইমেজকে আরও শক্তিশালী করতেই মিউজিক ব্যবহার করা হয়েছে। এমনভাবে কম্পোজিশন তৈরি করা হয়েছে, যাতে তিনি পর্দায় আসার আগেই দর্শকরা এক ধরনের অনুভূতি পান এখন কিছু বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
সবশেষে আলাপ হয় বাংলাদেশে বর্তমানে মিউজিশিয়ানদের মূল্যায়ন নিয়ে। প্রসঙ্গটি কিছুটা কঠিন উল্লেখ করে হাসতে হাসতে জাহিদ নিরব বলেন, সামাজিকভাবে মিউজিশিয়ানদের মূল্যায়ন নেই। কথা বললাম এই কারণে যে, মিউজিশিয়ান বিয়ে করতে গেলে সিভিতে মিউজিশিয়ান লিখলে বিয়ের বাজার দরই থাকবে না। এটাই সত্য। কিন্তু আমি মনে করি, সামাজিক মর্যাদা অনেকটা অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত।
“যারা অর্থনৈতিকভাবে সলভেন্ট তাদের সামাজিক মর্যাদা বেশী। এটা সারা বিশ্বের হচ্ছে। তবে আগের অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করলে আমার অনেক ভালো অবস্থানে আছি। একসময় গানের নেপথ্যে কারা কাজ করছে কেউ জানতো না। কিন্তু এখন সবাইকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং সামাজিক মর্যাদাও বাড়ছে।” বলেন জাহিদ নিরব।


