ঈদে মুক্তি পাওয়া ছয় ছবির মধ্যে তানিম নূর পরিচালিত উৎসব দর্শকদের মন জয় করেছে। কম সংখ্যক শো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এই ছবিটি সিনেপ্লেক্স-মাল্টিপ্লেক্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ছিল উৎসবের প্রিমিয়ার শো। সেখানে এ ছবির শিল্পী কলাকুশলীরা উপস্থিত হয়েছিলেন।
উৎসবে ‘খাইস্টা জাহাঙ্গীর’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। তার চরিত্রটি দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন দর্শক। তবে তাকে নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস হলে হলে গিয়ে উপভোগ করতে পারেননি তিনি। ঈদের আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এই অভিনেতা। পরিস্থিতির অবনতি হলে নেওয়া হয় হাসপাতালের আইসিইউতে।
একদিকে শরীরের ক্লান্তি, অন্যদিকে বহু প্রতীক্ষিত সিনেমার মুক্তি। দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি হয়ে ওঠেন যেন এক নিঃশব্দ যোদ্ধা। অবশেষে শরীরের সঙ্গে আপস করে নয়, যেন এক লড়াই জিতে, জাহিদ হাসান হাজির হলেন সিনেমা হলে। সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা, সহশিল্পীরা।
পর্দা জ্বলে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের হৃদয়ের দরজা খুলে জাহিদ হাসান বলেন, আজকে আমার ঈদ। কারণ ঈদের আগের দিন থেকে আমি অসুস্থ ছিলাম। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলাম। এর মধ্যেই ছবি মুক্তি পেয়েছে।’
একটু থেমে, আরেকটু নরম হয়ে, বললেন কৃতজ্ঞতার কথা, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা যে এত ভালো ভালো মন্তব্য করেছেন, দর্শকদের ছবিটি দেখানোর চেষ্টা করেছেন, সেটা আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি নিজে আসতে পারছিলাম না, কিন্তু আমার সহযোদ্ধারা, ভাই-ব্রাদার, পরিবার। সবাই পাশে ছিল। তাদের উৎসাহে মনে শান্তি পেয়েছি।
ঠিক তখনই কেউ বলে ওঠে, আজ আপনার দিন, আপনি আরও কিছু বলেন। এই ছোট্ট আহ্বান, এই মমতামাখা ভালোবাসা যেন ছুঁয়ে যায় তাঁর হৃদয়ের গভীরতম সুরটিকে। চোখে জল আসে জাহিদ হাসানের।
কণ্ঠে এসে জমে কাঁপা এক সত্য, ‘কেউ আমাকে ভালোবাসলে আমার কান্না পেয়ে যায়। কেউ আদর করলে চোখে জল আসে। এটা কোনো অভিনয় নয়, সত্যি কথা। আমি অনেক ছবি করেছি, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। কিন্তু এভাবে কোনো ছবি আমার জীবনে আসেনি। এত ক্যামেরা, এত ভালোবাসা। এটা আমার জীবনের অনেক বড় পাওয়া।’
এই মুহূর্তটি যেন শুধু সিনেমার সাফল্য উদযাপন নয়, একজন শিল্পীর জীবনের গভীরতম আত্মপ্রকাশ। এক নিঃশব্দ যোদ্ধার আবেগঘন বিজয়। ‘উৎসব’ এখন আর কেবল একটি সিনেমার নাম নয়। এটি হয়ে উঠেছে শিল্প ও ভালোবাসার এক অমলিন মিলনক্ষেত্র।
জাহিদ হাসানের পাশাপাশি ছবিটিতে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, তারিক আনাম খান, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সৌম্য জ্যোতি, সাদিয়া আয়মান প্রমুখ।
উৎসব যেন এক আবেগময় ক্যানভাস, যেখানে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের ফাটল আর মানুষের গোপন অনুভবেরা রং হয়ে ঝরে পড়ে। আর ঠিক সেখানেই জাহিদ হাসানের ‘খাইস্টা জাহাঙ্গীর’ হয়ে উঠেছেন একটি আলাদা সুর, যা শেষ দৃশ্য পেরিয়েও হৃদয়ে বাজতেই থাকে।







