বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক-ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার পর স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। জাহানারা আলমের আনা ৪টি অভিযোগের মধ্যে ২টি অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি।
কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে জাহানারার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় স্বাধীন অনুসন্ধান কমিটি। বুধবার বিবৃতিতে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল জানিয়েছে বিসিবি। জাহানারা আলম লিখিতভাবে চারটি অভিযোগ জানিয়েছেন। যার মধ্যে দুইটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সেটার শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, ‘বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা অভিযোগগুলি তদন্ত করার জন্য গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
‘ঘটনাগুলো পূর্ববর্তী বোর্ডের আমলে ঘটেছিল। তবে অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর বর্তমান বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে গতবছর নভেম্বরে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে, যাতে বিষয়টি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীলভাবে সমাধান করা যায়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়, যার সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. নাইমা হক (বর্তমান সদস্য, বাংলাদেশ আইন কমিশন), ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা। প্রতিবেদনটি ৩১ জানুয়ারিতে সম্পন্ন হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
‘স্বাধীন কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগ উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। তার সঙ্গে বিসিবির সাথে চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ গতবছর ৩০ জুন শেষ হয়েছিল। পেশাদার মানের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ লক্ষ্য করেছে এবং তদন্ত কমিটি পর্যবেক্ষণ করেছে যে সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসারে কিছু পদক্ষেপ অসদাচরণ এবং হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।’
‘স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, বোর্ড হয়রানি এবং অসদাচরণের বিরুদ্ধে বিসিবির জিরো-টলারেন্স নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশসমূহ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের আইনি দলকে সম্পৃক্ত করেছে। বোর্ড তার নিয়মকানুন এবং প্রযোজ্য আইন অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
একইসঙ্গে, ২০০৯ সালের হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুযায়ী অভিযোগ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিসিবি তার প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বিসিবি পরিচালক এবং মহিলা উইং কমিটির প্রধান রুবাবা দৌলা এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিরাপদ এবং সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গঠন এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতা প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের দায়িত্বও কমিটিকে দেয়া হয়েছে। বিসিবি যথাসময়ে এ বিষয়ে পরবর্তী হালনাগাদ জানাবে।’








