দীর্ঘদিনের আন্দোলন, দাবি-দাওয়া ও প্রতীক্ষার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ বৃত্তি সময়মতো বণ্টন করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি অনুষদের ডাটাবেজ নিখুঁতভাবে যাচাই করছি, যেন কোনো শিক্ষার্থী জটিলতায় না পড়ে। এই বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের আবাসন ও পড়াশোনার আর্থিক চাপ দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।”
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসন ও আবাসন ভাতার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। গত বছর শিক্ষার্থীদের ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিশেষ আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই প্রথম ধাপে ১০ কোটি টাকার চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে শুরু হলো এ বৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, জকসু প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







