দেশের প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, চ্যানেল আইয়ের ২৫ বছরে পর্দাপণ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রামেন্দু মজুমদার।
রামেন্দু মজুমদার জানিয়েছেন, অনেক টিভি চ্যানেলে যাই, কিন্তু চ্যানেল আই-তে গেলে একটা ভিন্ন অনুভূতি হয়। পরিবেশটা অনেক অন্তরঙ্গ মনে হয়। এর কৃতিত্ব কেবল ফরিদুর রেজা সাগর বা শাইখ সিরাজ কিংবা চ্যানেল আইয়ের পরিচালকমণ্ডলীর নয়, ওখানে যারা কাজ করেন তারাও সবাইকে আপন করে নিতে জানেন। একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যে এটা একটা বিরাট অর্জন।
তিনি বলেন, ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি ধারণ করে চ্যানেল আই এবার পঁচিশে পা দিল। পরিপূর্ণ যৌবন এখন। এমন যৌবন জলতরঙ্গ রুধিবে কে? দুই দশকের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চ্যানেল আইয়ের আজকের জায়গায় পৌঁছানো কিন্তু সহজ ছিল না। চ্যানেল আই সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলেছে। দর্শকের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই আজ দর্শকের পছন্দের তালিকায় চ্যানেল আই শীর্ষে।
বাংলাদেশের লাল সবুজ চ্যানেল আইয়েরও প্রিয় রং। বাংলার শ্যামল প্রান্তরে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে সব সময়ে সমুন্নত রেখেছে চ্যানেল আই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি সবসময়ে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানমালায় প্রাধান্য পেয়েছে।
চ্যানেল আই এর দর্শকনন্দিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে আমি প্রথমেই উল্লেখ করবো শাইখ সিরাজ উপস্থাপিত ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর কথা। এমন একটি আপাত নীরস বিষয়কে শাইখ সিরাজ কী আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন কৃষি ও কৃষকের প্রতি তার আন্তরিকতা দিয়ে। যা সমাজে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে তিনি এক নীরব বিপ্লব সাধন করে চলেছেন। ‘গান দিয়ে শুরু’ দিয়ে আমার প্রায়ই দিন শুরু হয়। রেজানুর রহমান উপস্থাপিত সংবাদপত্রে বাংলাদেশ আমার আরেকটি প্রিয় অনুষ্ঠান। তবে মাঝে মাঝে যখন কর্তাভজা অতিথি পক্ষপাতমূলক আলোচনা করেন, তখন অনুষ্ঠানটির মান ক্ষুণ্ণ হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জিল্লুর রহমান উপস্থাপিত ‘তৃতীয় মাত্রা’ চ্যানেল আইয়ের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান যেখানে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমরা দেখতে পাই। প্রতিদ্বন্ধী রাজনৈতিক দলের নেতারা যুক্তি-তর্ক দিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
চ্যানেল আই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস তুলে ধরতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। নাসিরউদ্দিন ইউসুফ উপস্থাপিত ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন’-এর মাধ্যমে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কাহিনি, বীরাঙ্গনাদের সংগ্রাম, শহিদ পরিবারের কথা আমরা নতুন করে জানতে পারি। চ্যানেল আই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলো পালনে ব্যাপক আয়োজন করে। বিজয়মেলা, রবীন্দ্রমেলা, নজরুলমেলা, হুমায়ূনমেলা, প্রকৃতিমেলা, বাংলা নববর্ষ ইত্যাদির আয়োজন চ্যানেল আই প্রাঙ্গণকে উৎসবমুখর করে তোলে এবং তা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়ে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। উৎসকে স্বীকার করলে যে বড়ো হওয়া যায় চ্যানেল আই’র বিটিভি এর জন্মদিন উদযাপন তার প্রমাণ। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনায় ‘প্রকৃতি ও জীবন’ এ সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অনুষ্ঠান।
সাম্প্রতিককালে ইস্পাহানির পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাংলাবিদ’ অনুষ্ঠান থেকে আমরা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অনেক কিছু শিখেছি এবং একই সাথে আমাদের কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের শুদ্ধ বাংলা চর্চা ও ভাষার জ্ঞান দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কেবল সস্তা বিনোদনের দিকে ধাবিত না হয়ে এ ধরনের শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সব চ্যানেলেই যদি প্রচারিত হত! বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করে চ্যানেল আই দর্শকের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছে। সুস্থ সাংবাদিকতার নৈতিক অবস্থান থেকে চ্যানেল আই কখনও বিচ্যুত হয়নি।
চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে চ্যানেল আই এর ভূমিকা ব্যাপক। ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক ভালো ছবি প্রযোজনা করে চ্যানেল আই প্রচুর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারও লাভ করেছে। চ্যানেল আই সবসময়ে সকল শুভ সামাজিক উদ্যোগের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। শিল্পী-সাহিত্যিকদের দুঃসময়ে তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। যখনই আমাদের কোনো ভালো কাজে চ্যানেল আই এর সহযোগিতা চেয়েছি, বিনা বাক্যব্যয়ে তারা সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন। একটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হয়েও সামাজিক দায়বদ্ধতায় গুরুত্ব দিয়ে কী করে সাফল্য অর্জন করা যায় চ্যানেল আই তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
এতো চ্যানেলের প্রতিযোগিতার মাঝে চ্যানেল আইয়ের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ সন্দেহ নেই। আজকের মুক্ত আকাশে টিকে থাকার জন্যে চ্যানেল আই-এর বিষয় এবং উপস্থাপনায় আরও আধুনিক হবার সুযোগ রয়েছে। আমার বিশ্বাস ফরিদুর রেজা সাগর আর শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে চ্যানেল আই দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করে এগিয়ে যাবে আরও অনেক দূর।
পঁচিশ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই এর সকল কর্মী, শিল্পী, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী ও দর্শককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।







