এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উন্মোচন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বের কোটি কোটি ক্রীড়ামোদী অধীর আগ্রহ নিয়ে মুখিয়ে আছেন। শতভাগ প্রস্তত তিন আয়োজক দেশ- কানাডা, মেক্সিকো এবং আমেরিকা।
বৃহস্পতিবার ১১ জুন রাত ১টায় মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নামবে মেক্সিকো এবং সাউথ আফ্রিকা।
উদ্বোধনী পর্বে জগৎবিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শাকিরা আর বার্নবয়-এর কণ্ঠে ‘দাই দাই’ থিম সং এবং অন্যসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও’র হুইসেল বেজে উঠবে। সূচনা হবে বিশ্বকাপের দুর্দান্ত লড়াই।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল বেশ কয়েকটি কারণে স্বাতন্ত্র। এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট, অংশগ্রহণকারী দেশ— এরকম অনেককিছুই নতুন এবং প্রথম। এবারই একসাথে তিন দেশে হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। অংশগ্রহণকারী দেশ ও ম্যাচের হিসেবে এই বিশ্বকাপ সবচেয়ে বড়।
বিগত আয়োজনের ৩২ দেশের অংশগ্রহণের নিয়ম ভেঙে বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে অংশগ্রহণ করছে মোট ৪৮টি দেশ। স্বভাবতই ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ থেকে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে। এবার প্রুপ, নকআউট পর্বও বেড়েছে।
সর্বোচ্চ সংখ্যক ভেনু ও শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। ফিফা বলছে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘ এক আসর। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার খেলবেন। এরমধ্যে প্রথমবার খেলবেন এরকম ফুটবলারের সংখ্যা ৮৯১ জন।
এদিকে নান্দনিক এবং গতিময় ফুটবলকে উদ্বুদ্ধ করতে ফিফা এবারের বিশ্বকাপে বেশ কিছু নতুন নিয়ম কানুনও প্রচলন করেছে।
ফিফার ভাষ্য, ফুটবলকে আরও আকষণীয় ও হ্নদয়গ্রাহী করতে নতুন নিয়ম কানুনে সব সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে রেফারিংকে আরও কার্যকর করতে বেশকিছু আইনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ভিএআর সিস্টেমে পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা হয়েছে। হলুদ কার্ড দেখানো বা ভুল কোন খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হলে ভিএআর দেখে তা শোধরানোর সুযোগ থাকবে। আবার খেলা যাতে মন্থর না হয়ে পড়ে এজন্য থেলোয়াড় বদলির সময় রাখা হয়েছে মাত্র ১০ সেকেন্ড। সিগন্যাল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাই খেলোয়াড়কে মাঠের নিকটবর্তী অংশ দিয়ে দ্রুত বের হতে হবে। আবার থ্রো-ইন এবং গোল কিকে ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় কোন খেলোয়াড় নিতে পারবেন না। মাঠে সময় নষ্ট করলেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ফিফা মনে করছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচের ছন্দ নষ্ট করার সুযোগ থাকবে না। নান্দনিক ও গতিময় ফুটবল দৃশ্যায়িত হবে।
সাবেক কৃতি ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলামও মনে করছেন এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল বড় বেশি বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় হবে। ফুটবল লড়াই-এ আরও অনেক নতুনত্ব দেখা যাবে। চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই সেই পুরনোদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রথম রাউন্ড শেষে অনেককিছু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকবে। আসলাম বললেন, ‘বিগত দিনে যে সব দেশ বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে তারা এবারও ফেভারিট। আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন, জার্মানি— এসব দেশের বাইরে আর কারো যোগ্য ভাবার অবকাশ নেই।’
মরক্কো, সেনেগাল বা অন্য কোন দেশ ঢেউ তুললেও শেষপর্যন্ত টিকে থাকা দায় হয়ে পড়বে, এটাই ফুটবল। শেষপর্যন্ত লড়াই করবে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘গত বিশ্বকাপে এশিয়ার দুটি দেশ জাপান এবং সাউথ কোরিয়া দুর্দান্ত খেলেছিল। এই দুটি দেশ এশিয়ার গৌরব। এবারও লড়বে। সাথে ইরানের দিকে সবার বাড়তি নজর থাকবে। ইরানের গ্রুপ অবশ্য খুবই শক্তিশালী। এশিয়ার দল গ্রুপ পেরিয়ে যতবেশি উপরের দিকে যেতে পারবে, সেটা এশিয়ার জন্য গৌরবময় হবে।’
মেক্সিকো সিটির ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো এবং সাউথ আফ্রিকা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মেক্সিকোর সর্বশেষ অবস্থান ১৪ এবং সাউথ আফ্রিকার অবস্থান ৬০। সাবেক কৃতি ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম মনে করেন, সব বিবেচনায় এ ম্যাচে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো অনেকবেশি এগিয়ে রয়েছে। তার মতে, উত্তর আমেরিকার এই দেশটি বহুদিন ধরে বিশ্বকাপে খেলছে। অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দল।
আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলতে অভ্যস্থ মেক্সিকো দেশের মাটিতে খেলবে। ফলে জয়ের জন্য তারা আপ্রাণ লড়বে। রাফায়েল মার্কেজের দেশ কাউকে হতাশ করবে না। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তারা সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাবে।







