এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করেছেন তিনি।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার ১৭ জুন ইসরায়েলের যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রিসভার দুই জন মন্ত্রী মন্ত্রি বেনি গান্টজ এবং গ্যাডি এইসেনকোটের পদত্যাগের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। তখন অক্টোবর মাসেই গাজায় যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই মন্ত্রিসভা গঠন করেন। মন্ত্রিসভায় ছিলেন–প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ত, স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রী রন ডেরমার, অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং দপ্তরবিহীন দুই মন্ত্রী বেনি গান্টজ এবং গ্যাডি এইসেনকোট।
তবে এই মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ও সাধারণ জনগণের মধ্যে। সমালোচকদের অভিযোগ, হামাসের কব্জায় থাকা জিম্মিদের উদ্ধারে উদাসীনতা দেখাচ্ছে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। এছাড়া সেনাবাহিনীতে নাগরিকদের বাধ্যতামূলক যোগদান সংক্রান্ত একটি বিল পার্লামেন্টে উত্থাপন করেছে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা, এই বিল নিয়েও বেশ কিছুদিন ধরে সমালোচনা চলছে। তাছাড়া এই মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসরায়েরের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেরও আপত্তি ছিল।
এসব সমালোচনা ও টানাপোড়েনের জেরেই সম্প্রতি পদত্যাগ করেন বেনি গান্টজ এবং গ্যাডি এইসেনকোট।
যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রিসভা বাতিল হলেও গাজার রাফাসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। এদিকে, উত্তর গাজায় ত্রাণের ট্রাকের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার নিরাপদ অঞ্চল রাফাহ থেকে গত ৬ সপ্তাহে প্রায় ১৩ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গাজায় চলমান ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান।







