ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ৫ বছর পর জুমার নামাজে খুতবা প্রদান করেছেন। খুতবায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দখলদার ইসরাইলের জন্য ন্যূনতম শাস্তি।
পার্স টুডে জানিয়েছে, গতকাল (৪ অক্টোবর) শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লিদের উদ্দেশে খুতবায় তিনি বলেন, ইসরায়েলকে মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হবে, এর কোন শেকড় নেই, এটি ভুয়া, নড়বড়ে এবং শুধুমাত্র মার্কিন সমর্থনের কারণে টিকে আছে।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সৈয়্যদ হাসান নসরুল্লাহ আর আমাদের মধ্যে নেই, তবে তার চেতনা এবং তার পথ চিরকাল আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। তার মৃত্যু বৃথা যাবে না। আমাদের অটল ঈমান শক্তিশালী করে শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইসরায়েলে হামাসের ৭ অক্টোবর হামলাকে সঠিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে বলেন, কোন আন্তর্জাতিক আইনে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে নিজেদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য লেবানিজ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আপত্তি ও প্রতিবাদ করার অধিকার নেই।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, দায়িত্ব পালনে আমরা বিলম্ব করি না, আবার তাড়াহুড়োও করি না। সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মতে যা সঠিক ও যা যৌক্তিক তা আমরা সঠিক সময়ে করে থাকি। এরমধ্যে সঠিক সময়ে দায়িত্ব পালন করা হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দখলদার ইসরাইলের জন্য ন্যূনতম শাস্তি। হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইসলামি জিহাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর বড় কোন ক্ষতি করতে সক্ষম নয় বলেই নিকৃষ্ট ও অসভ্য শত্রু দখলদার ইসরায়েল বেসামরিক মানুষ হত্যাকে নিজের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সর্বোচ্চ নেতা খামেনি পাঁচ বছর আগে সর্বশেষ জুমার খুতবা দেন। শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার জবাবে ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের নেতা সর্বশেষ জুমার নামাজের ইমামতি করেন।







