ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবে ২৩ হাজারের বেশি ইসরায়েলি শিশু ও কিশোর-কিশোরী মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ যেন এক অভিশাপের মতো নেমে এসেছে ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবনে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫৬ জন ইসরায়েলি শিশু ও কিশোর-কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসের কারণে অন্তত ৩৮৯ জন তাদের বাবা-মায়ের একজনকে হারিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তের বাড়িঘর থেকে ৩৮ হাজার ৬২৮ জন ইসরায়েলিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ইনস্টিটিউট কর্তৃক স্বীকৃত অন্তত ২৩ হাজার ২১২ জন ইসরায়েলি শিশু শত্রুতার কারণে শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ৯৫২ জন গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার বলে জানা গেছে।
পরিবারগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা ইসরায়েলি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আত্মহত্যার চেষ্টার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও তাদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু এবং ১০ হাজারের বেশি নারী রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বহু মৃতদেহের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজার অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা ধ্বংসের কারণে সেখানে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, গাজার ৮০ শতাংশেরও বেশি আবাসিক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা সেখানকার জীবনযাত্রাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের সরাসরি শিকার হয়েছে ফিলিস্তিনের শিশুরা। ঘরবাড়ি হারানো, আপনজনদের মৃত্যু দেখা এবং প্রতিনিয়ত বোমাবর্ষণের শব্দ তাদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার অভাবে তারা চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। গাজার বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে। একইসঙ্গে, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত উভয়পক্ষের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।







