এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের উঁচু ভূমি দখলের চেষ্টা করছে এবং নাবাতিয়েহ শহরকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা অন্যান্য শহরের দিকেও ভারী বোমাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
শনিবার (৩০ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে পুরো শহরের জন্য স্থান ত্যাগের নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। তেমনই তাইর শহরের জন্যও ব্যাপক স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক ডজন বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও আর্টিলারি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দক্ষিণ লেবাননের পুরো এলাকাকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করেছে। যারা এখনও সেখানে আছে, তাদেরকে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে বলেছে। এতে দেশটিতে একটি ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে, যেখানে এরই মধ্যে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান ও কামান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত হন অন্তত ৩ জন। জবাবে পাল্টা রকেট হামলার দাবি করে হিজবুল্লাহ।
হামলার আগে এক ডজনের বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় দখলদার বাহিনী। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের আশপাশের এলাকা। যেটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি কৌশলগত পাহাড়ে অবস্থিত। এরইমধ্যে দখলদার বাহিনী লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার খবর জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া নদীর দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি হামলায় লেবানিজ সেনাসহ একদিনে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এক যৌথ বিবৃতিতে ঘরবাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস ও উচ্ছেদ সতর্কতা বন্ধে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি লক্ষ্যহীন হামলার মধ্য দিয়ে তেলআবিব বৈরুতকে পুরোপুরি ধ্বংসের কৌশল অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ইসরায়েল এখন শুধু নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে না, বরং পুরো শহর ও জনপদ ধ্বংস করছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা বেসামরিকদের জন্য এক ধরনের সমষ্টিগত শাস্তি। আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড নিন্দনীয়।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। কিরিয়াত শমোনা শহরের একটি শপিং সেন্টারে এসব রকেট আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে বেসামরিক হতাহতের জবাবেই এই পাল্টা হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
দুপক্ষের সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির কাঠামো ও সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনাও আলোচনায় উঠে আসে। তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি বলে জানা গেছে।








