যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সংক্রান্ত প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে তীব্র উদ্বেগ ও বিস্ময়ের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি ইসরায়েলের ঘোষিত যুদ্ধ লক্ষ্যগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং কৌশলগত অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ১৮ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চুক্তির শর্তাবলী প্রকাশের পর ইসরায়েলে প্রায় নীরবতা ও হতবাক পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইসরায়েলের বিশ্লেষকদের দাবি, চুক্তিটি ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ইরানে শাসন পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর (হিজবুল্লাহ ও হুতি) প্রভাব কমানো কোনোটিই পূরণ করেনি।
তাদের মতে, চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি সীমিত করার সিদ্ধান্ত তেহরানের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ইরান দাবি করতে পারছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কোনো কঠোর সীমাবদ্ধতা না থাকায় ইসরায়েল আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে ইরান শত শত বিলিয়ন ডলার অর্থ পেতে পারে যা তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের নীতি নির্ধারক ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা চুক্তিটিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবশ্য প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, দেশটির মূল লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়নি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির ফলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কেউ কেউ একে কূটনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে দাবি তাদের। ইসরায়েলের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এই চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

