এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করা পাঁচ হামাস নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এবার মিশরে অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে ইসরায়েল।
শনিবার সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিশরের কায়রোতে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা কারার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন।এ ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছে মিশর। তারা বলছে, যেকোনো আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে।
একটি উচ্চ-স্তরের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকে জেনেছেন, ইসরায়েল কিছুদিন ধরে কায়রোতে হামাস নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। কারণ গত দুই বছর ধরে শহরে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সময় মিশর ইতোমধ্যেই একটি পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে (দুপুর ১টা জিএমটি) হামাস নেতাকে লক্ষ্য করে কাতারের রাজধানী দোহার আবাসিক ভবনে প্রায় ১২টি বিমান হামলা চালানো হয়। যা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে।
মিশরীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিবৃতি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হুমকি এসেছে, তারা অন্যান্য দেশে হামাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।
এর জবাবে মিশরের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল কর্তৃক মিশরের মাটিতে হামাস নেতাদের জীবন নাশের যেকোনো প্রচেষ্টা, মিশরের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। এ হামলা হলে তা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসাবে বিবেচিত হবে। এর প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না মিশর।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মিশরে বসবাস করেছেন বলে ঘোষণা করা হয়নি, তবে নিরাপত্তা সূত্রটি একচেটিয়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান গাজা যুদ্ধের আগেও অনেকেই বছরের পর বছর ধরে দেশে বসবাস করেছেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের পরিচয়, সংখ্যা এবং সঠিক অবস্থান অপ্রকাশিত রয়েছে।
সূত্রের মতে, মিশরীয় কর্মকর্তারা তাদের ইসরায়েলি প্রতিপক্ষদের আলোচনায় ফিরে আসার এবং গাজায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাব্য গাজা যুদ্ধবিরতির প্রতি তেল আবিবের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিশরীয়-ইসরায়েলি সম্পর্ক ইতিমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মিশরীয় কর্মকর্তারা গাজার ভবিষ্যতের দায়িত্ব – উত্তর সিনাইতে ফিলিস্তিনিদের সম্ভাব্য স্থানচ্যুতিসহ কায়রোর উপর স্থানান্তর করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন।
১৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশর ফিলিস্তিনিদের সিনাইতে সম্ভাব্য প্রবেশপথ বাধাগ্রস্ত করার জন্য গাজার সাথে মিশরীয় সীমান্তে প্রায় ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে ফিলিস্তিনিরা সিনাই সীমান্ত লঙ্ঘন করতে বাধ্য হতে পারে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
দোহার হামলার আগে গত সপ্তাহে একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য আলোচনায় কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দোহায় হামলার পর এক ভিডিও ভাষণে নেতানিয়াহু হামাসকে যেকোনো জায়গায় লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমি কাতার এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দানকারী সমস্ত দেশকে বলছি, হয়, আপনারা তাদের বহিষ্কার করেন অথবা তাদের বিচারের আওতায় আনবেন। যদি আপনারা তা না করেন, তাহলে আমরা করব।








