এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) এই বিষয়ে এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন এই সমঝোতা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।
চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও অপারেটিভকে সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কিছু পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল বা ‘পাইলট জোন’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং পুরো নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) এর হাতে।
নতুন এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এতে এপ্রিল মাসে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আরও চাপে পড়ে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই পক্ষ একটি সীমিত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল। সে অনুযায়ী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা বন্ধ রাখবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল রাজধানী বৈরুত-এ বড় ধরনের হামলা চালাবে না বলে জানানো হয়েছিল।
তবে ওই সমঝোতা নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেন, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি; বরং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে একটি সীমিত সমঝোতা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে চলমান আলোচনায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।
এদিকে নতুন চুক্তির আগে ইসরায়েলি নেতারা সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর সীমান্তে হিজবুল্লাহর কোনো হামলা হলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহতে আবারও বিমান হামলা চালানো হবে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন ও দুটি রকেট তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
নতুন যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে আগামী ২২ জুন দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসবে। তবে এ বিষয়ে হিজবুল্লাহ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন বা আপত্তি জানায়নি। এদিকে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন ও নিরাপদ একটি লেবানন গঠনের রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।








