বাংলাদেশের হিন্দু পুরোহিত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারতের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে ইসকন (ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস)। ইসকনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ মিথ্যা এবং অগ্রহণযোগ্য। তাই ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তার মুক্তি নিশ্চিত করা।
আজ (২৬ নভেম্বর) মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসকন কখনও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না এবং এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারত সরকারকে তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে আমাদের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইসকনের মুখপাত্র রাধারামণ দাস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর, বাংলাদেশের ঢাকা শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হিন্দু সমাবেশ চলাকালীন জাফরান রঙের পতাকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপরে স্থাপন করার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে তাকে আটক করে। তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইসকন সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা আরও হয়, ইসকনের মুখপাত্র রাধারামণ দাস বলেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় নেতা। তাকে গ্রেপ্তারের পেছনে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নেই। ইসকন সবসময় শান্তির পক্ষে এবং আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন দ্রুত এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদও চলছে বাংলাদেশে। তারা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় আরও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারে সংখ্যালঘু বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে ১৯ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজন আসামি রাজেশ চৌধুরী এবং হৃদয় দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের মধ্যে আরও কিছু ধর্মীয় নেতা এবং ইসকন সদস্যদের নাম উঠে এসেছে।
এখনও পর্যন্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে ইসকন পক্ষ থেকে ভারতের সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে।








