বিশ্বব্যাপী এখন আলোচনায় ‘এপস্টেইন ফাইলস’! যা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার। প্রকাশিত নথির একটি ইমেইলে তার নাম উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির মা। এই পরিচয়ের কারণে আরো বেশী আলোচিত তিনি। আমেরিকার বিচার বিভাগ শুক্রবার যে অতিরিক্ত তদন্তসংক্রান্ত নথিগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে, সেখানে ২০০৯ সালের একটি ইমেইলে নায়ারের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।
ওই ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন মার্কিন পাবলিসিস্ট পেগি সিগাল, যা পাঠানো হয়েছিল ধনকুবের ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে। ইমেইলে বলা হয়, একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পর ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের ম্যানহাটনের টাউনহাউসে আয়োজিত একটি ‘আফটার পার্টি’তে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, শিল্প সংগ্রাহক জঁ পিগোজ্জি এবং পরিচালক মীরা নায়ারসহ আরও অনেকে।
এপস্টেইন ফাইলে মীরা নায়ারের নাম আসার পর নতুন করে অন্য আরেকটি বিতর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে তার প্রাক্তন স্বামীর নাম ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ায় যে মীরা নায়ারের সাবেক স্বামী মিচ এপস্টেইন হয়তো জেফরি এপস্টেইনের কোনো আত্মীয়!
তবে একাধিক নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মিচ এপস্টেইন ও জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে কোনো পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তাদের নামের মিল ছাড়া অন্য কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
আর মিচ এপস্টেইনের সাথে ১৯৮৯ সালেই বিচ্ছেদ ঘটে মীরা নায়ারের। পরে তিনি বিয়ে করেন মাহমুদ মামদানিকে, তাদের সংসারেই জন্ম নেন বর্তমান নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।
এদিকে, এই নথি প্রকাশের পর নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রেসি ম্যানশন–এর বাইরে কিছু বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন এবং মেয়রের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করছেন।
তবে অনেকেই বলছেন মীরা নায়ারের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ নথিতে নাম থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে মীরা নায়ারের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইলসে নাম থাকলেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয় না। বরং নথিগুলোতে উল্লেখিত অনেক নামই সাক্ষ্য, সামাজিক উপস্থিতি বা যোগাযোগের সূত্রে উঠে এসেছে- যার সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, ‘সালাম বোম্বে’ নির্মাতা মীরা নায়ার নিয়মিত সিনেমা বানান। তার নির্মিত ছবি ও টিভি সিরিজের মধ্যে দ্য নেমসেক, সেপ্টেম্বর ৮, কামসূত্র: আ টেল অব লাভ এবং আ সুইটেবল বয় উল্লেখযোগ্য। ফার্স্টপোস্ট








