ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও ভর্তি কমিটির প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। সে অনুযায়ী উপাচার্য বরাবর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷
আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তথ্যানুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, স্নাতকোত্তর কোর্স ‘প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন জাপানিজ স্টাডিজে (পিএমজেএস)’ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে ভর্তির সুযোগ পান ছাত্রলীগের তিন নেতা-কর্মী। সম্প্রতি বিভাগটির চেয়ারম্যান এবং ভর্তি কমিটির প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক অপসারণ করে তার বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঠু চন্দ্র শীল এবং আরও একজন কর্মীকে অনিয়ম করে ভর্তি করান৷
তথ্যানুসন্ধান কমিটির একজন সদস্য চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অনিয়মিত স্নাতকোত্তর কোর্স ‘প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন জাপানিজ স্টাডিজে (পিএমজেএস)’ অসঙ্গতি পেয়েছে তথ্যানুসন্ধান কমিটি৷ সে অনুযায়ী উপাচার্য বরাবর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে৷
তিনি আরও বলেন, যেহেতু অভিযোগের কিছুটা সত্যতা রয়েছে, তাই জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্বে থাকতে পারেন না। তথ্যানুসন্ধান কমিটি থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাগের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, সেই সাথে কিছু কোর্সের সঙ্গে যুক্ত, তাই তাকে একাডেমিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়া হোক। যাতে করে শিক্ষার্থীরা কোন প্রকার সেশনজটের শিকার না হয়।
জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং এই ভর্তি কমিটির প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযুক্ত হলেও সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মাকসুদ কামালের কাছের লোক হওয়ার কারণে তিনি এই অনিয়ম করে পার পেয়ে যান।
বিভিন্ন সময়ে ঢাবির সাবেক এই উপাচার্যের সঙ্গে অভিযুক্তই শিক্ষককে বিদেশ ভ্রমণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেও দেখা গেছে।
সম্প্রতি অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভাগে ভর্তি করানোর বিচার দাবি করে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এই দাবির প্রেক্ষিতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে প্রধান করে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।








