আর্থিক পরিস্থিতি ও ভেন্যুতে ম্যাচের চাপ থাকার কারণে আয়ারল্যান্ড সফর স্থগিত করতে পারে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। চলতি বছর সাদা বলের সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে অজিদের আগামী আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের (এফটিপি) অধীনে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আইরিশদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টুয়েন্টি খেলার সূচি নির্ধারিত আছে। তবে আয়ারল্যান্ডের সামনে ব্যস্ত গ্রীষ্ম মৌসুমে রয়েছে অনেক ম্যাচ।
পাকিস্তান এবং সাউথ আফ্রিকা সাদা বলের সিরিজের জন্য আয়ারল্যান্ড সফরে যাচ্ছে। একইসঙ্গে নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ডকে নিয়ে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড টি-টুয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজও আয়োজন করবে।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিপক্ষে আইরিশরা নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে। দলটি এবার ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের সাথে সাদা বলের সিরিজের পাশাপাশি একটি টেস্ট খেলবে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলার পর আয়ারল্যান্ড এখনো নিজেদের দেশে কোনো টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করেনি।
মেয়েদের ক্রিকেটেও আইরিশরা পার করবে ব্যস্ত সময়। ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে হোম সিরিজ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে সূচি।
ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর রিচার্ড হোল্ডসওয়ার্থ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের সামগ্রিকভাবে এফটিপিতে যেসব ম্যাচ নির্ধারিত ছিল, তা আয়োজন করাটা সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ। আমরা যে পরিমাণ ভেন্যু পেয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি ক্রিকেট ম্যাচ পেয়েছি।
কোভিডের পর থেকে আয়ারল্যান্ডে খেলার খেলার খরচ অনেক বেড়েছে। হোটেলের দাম, মাঠের জন্য অস্থায়ী অবকাঠামো স্থাপন করা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
হোল্ডসওয়ার্থ জানান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাদা বলের সিরিজ ইংল্যান্ডে স্থানান্তরিত হবে না। যদিও আয়ারল্যান্ড এর আগে চেমসফোর্ড এবং ব্রিস্টলে ম্যাচ আয়োজন করেছিল। চলতি বছরের পর অস্ট্রেলিয়া ২০২৭ সালে অ্যাশেজ সিরিজের আগে ইংল্যান্ড সফরে যাবে না। যদিও সিরিজ আয়োজনের আশাও পুরোপুরি ছাড়ছেন না।
এবারের গ্রীষ্ম মৌসুমে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে আতিথ্য দিতে পারি কিনা, কিংবা এফটিপির একটি ভিন্ন অংশে তাদের সঙ্গে ম্যাচগুলো স্থানান্তর করতে পারি কিনা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখনও সকল বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছি।
আইসিসি তহবিলের পুরো অর্থ বরাদ্দ পেলে আন্তর্জাতিক সময়সূচি নির্ধারন করা সহজ হতো বলেও জানান ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর। বিতরণ মডেলে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত কিছু তহবিল একটি রক্ষিত উদ্বৃত্ত তহবিলে চলে যাবে, সেই অর্থ বিনিয়োগের পর সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বছরে তাদের ১৮ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ৩ মিলিয়ন উদ্বৃত্ত তহবিলের জন্য নির্ধারিত।
হোল্ডসওয়ার্থের ভাষ্য, এর অর্থ হল আমাদের বাজেট ততটা নয়, যতটা আমরা ভেবেছিলাম। আমাদের যদি এই বছরে আরও রাজস্ব আসতো, তবে আরও ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে কোনো প্রশ্নই উঠত না।
আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের সাথে আয়ারল্যান্ড আগামী সপ্তাহে দুবাইতে আইসিসির বৈঠকের জন্য নির্ধারিত ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে। সেখানে তারা তহবিল আটকে রাখা সামান্য শতাংশ কমাতে সক্ষম হতে পারে বলেও আশাবাদী হোল্ডসওয়ার্থ।








