মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ঢেউ এখন চীনের অর্থনীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনায় আঘাত লাগতে শুরু করেছে। স্বল্পমেয়াদে চীনের কাছে কয়েক মাসের তেল মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে রাশিয়ার কাছ থেকে সরবরাহ নেওয়া যাবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ বিপন্ন হতে পারে।
আজ (৭ মার্চ) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে চীন প্রতিদিন প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা তাদের মোট আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে হুরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় থেমে গেছে, যা তেলের দাম বাড়িয়ে চীনের শিল্প ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। বেইজিং ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের প্রায় ৪৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়, যার মধ্যে ইরান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল আসে।
এদিকে চীন-ইরান সম্পর্ক লেনদেনভিত্তিক। ২০২১ সালের ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতে চীন ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অল্প অংশই এসেছে। তবে ইরান থেকে তেলের প্রবাহ অব্যাহত ছিল। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিনিয়োগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং আফ্রিকায় অন্যান্য প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।







